পাহাড়তলিতে চরতে চরতে দল থেকে আলাদা হয়ে গেল ছোট্ট এক ছাগলছানা। কখন যে বনের ভেতর ঢুকে পড়েছে, টেরই পায়নি! সন্ধ্যা নামছে। — «মা কোথায়? দল কোথায়?»
হঠাৎ ঝোপের আড়াল থেকে বেরিয়ে এল এক বিশাল বাঘ! ডোরাকাটা গা, জ্বলজ্বলে চোখ। জিভ চেটে সে বলল — «এই যে ছোট্ট ছাগল! আজ তো খাবার নিজেই হেঁটে এসেছে। পালাবি কোথায়?»
ছাগলছানার বুক ধুকধুক। মনটা বলল — «দৌড়া! পালা!» কিন্তু সে জানে, পিঠ ফিরিয়ে দৌড়ালে বাঘ ঠিক ধরে ফেলবে। তাহলে উপায়?
ছাগলছানা বড় করে দম নিল। ভয় চেপে শিং দুটো উঁচু করল। তারপর — এক পা… আরেক পা… সোজা বাঘের দিকেই এগিয়ে গেল! শান্ত গলায় বলল — «এই বনের সবচেয়ে শক্ত শিং কার, জানো?»
বাঘ থমকে গেল। এ আবার কেমন প্রাণী! পালায় না, উল্টে এগিয়ে আসছে? থতমত খেয়ে সে বলল — «থ-থাম! ওই শিং নিয়ে কাছে আসিস না!» একটু… একটু করে বাঘ পিছিয়ে গেল।
ছাগলছানা আরও এক পা বাড়াল — দুপ! ব্যস, বাঘের সাহসে কুলোল না। — «বাবা গো!» বলে এক লাফে উল্টো দিকে দৌড়! ঝোপঝাড় ভেঙে পালিয়ে গেল রাজা বাঘ।
গাছের ফাঁকে চাঁদ উঠল। বুক ফুলিয়ে ছাগলছানা ফিরল দলের কাছে। মা তাকে জড়িয়ে ধরল — «এই তো আমার সাহসী সোনা! ভয় পাসনি একটুও?» ছাগলছানা শুধু মুচকি হাসল।