চৈত্রের খাঁ-খাঁ দুপুর। মাঠ ফেটে চৌচির, কোথাও এতটুকু খাবার নেই। ক্ষুধার্ত শিয়াল হাঁটে তো হাঁটে — পেটে গুড়গুড়। হঠাৎ বাতাসে ভেসে এল মজার এক গন্ধ! — «ওই দূরে ওটা কী?»
গন্ধ ধরে শিয়াল এসে পড়ল আজব এক জায়গায়। সারি সারি তাঁবু, উড়ছে রঙিন নিশান — সৈন্যদের ফেলে যাওয়া ছাউনি! — «কেউ আছ?» জবাব দিল শুধু বাতাস — শোঁ-ও-ও।
ঠিক তখনই — গুড়ুম্! মাটি পর্যন্ত কেঁপে উঠল! এক লাফে শিয়াল গাড়ির পাশে — কান চ্যাপটা, লেজ গুটানো, বুক ধুকপুক। — «নিশ্চয়ই ভীষণ কোনো দৈত্য!» তুমি হলে কী করতে?
রাত নামল। আকাশে একা চাঁদ, গাড়ির তলায় একা শিয়াল। পালাবে? কিন্তু পেট যে একদম খালি! বুক ভরে দম নিয়ে সে বলল — «না, পালাব না। আগে নিজের চোখে দেখব ওটা কী।»
এক পা… আরেক পা… ভয়ে লেজ কাঁপে, তবু শিয়াল এগোয়। বটগাছের নিচে এসে দেখল — বাতাসে দুলছে এক ডাল, আর বাড়ি পড়ছে মস্ত এক ঢাকের গায়ে! বাতাস এলেই — ধুম্!
— «ও-ও! দৈত্য না — এ যে ঢাক!» শিয়াল সাহস করে টোকা দিল — টুক, টুক। ওমা, ভেতরটা একদম ফাঁপা! হাসতে হাসতে সে গড়িয়ে পড়ল — «এত বড় গলা, অথচ পেটে কিচ্ছু নেই!»
ভোরের সোনা রোদ ছড়িয়ে পড়ল ছাউনিতে। তাঁবুর ভেতরে শিয়াল পেয়ে গেল চিড়া আর গুড়! পেট ভরে খেয়ে সে ঢাকের ওপর উঠে বাজাল — ধিনতা-ধিন!