এক বাড়ির কোণে থাকত একদল ইঁদুর। কিন্তু সুখ ছিল না — কারণ বাড়িতে ছিল এক বিশাল বিড়াল! পা টিপে টিপে সে আসত, কেউ টেরও পেত না। ফ্যাঁচ! — এক লাফ। ইঁদুরগুলো ভয়ে কাঁপত, সারাদিন গর্তে লুকিয়ে থাকত।
একদিন সব ইঁদুর গর্তের ভেতর বসল সভা করতে। বুড়ো-ছোট, মোটা-রোগা — সবাই হাজির। “এভাবে আর চলে না!” বলল একজন। “বিড়ালের হাত থেকে বাঁচার একটা বুদ্ধি চাই-ই চাই।” সবাই মাথা নাড়ল, কিন্তু বুদ্ধি আর আসে না।
হঠাৎ এক তরুণ ইঁদুর লাফিয়ে উঠল — “পেয়েছি! পেয়েছি!” চোখ তার চকচক করছে। “বিড়ালের গলায় যদি একটা ঘণ্টা বেঁধে দিই — টুংটাং! তাহলে ও যেদিকেই যাক, আমরা আগেভাগে শুনে পালাব!”
শুনে সবাই আনন্দে ফেটে পড়ল! “বাহ্, কী দারুণ বুদ্ধি!” “এমন কথা তো কেউ ভাবেইনি!” কেউ হাততালি দিল, কেউ লাফ দিল, কেউ নাচতে শুরু করল। ঘণ্টার কথা ভেবে গর্তজুড়ে শুরু হলো হই-হুল্লোড়।
এমন সময় কোণ থেকে উঠে দাঁড়াল এক বুড়ো ইঁদুর। শান্ত গলায় সে শুধু একটা কথা বলল — “বুদ্ধিটা তো ভালোই। কিন্তু বলো তো দেখি — বিড়ালের গলায় সেই ঘণ্টাটা বাঁধবে কে?”
ব্যস! গর্তের ভেতর নেমে এল পিনপতন নীরবতা। এক নিমেষে থেমে গেল সব হই-হুল্লোড়। একজন তাকাল মাটির দিকে, একজন আস্তে আস্তে পিছিয়ে গেল। কেউ — একটা ইঁদুরও — সাহস করে বলল না, “আমি বাঁধব।”
বুড়ো ইঁদুর মৃদু হেসে বলল — “বুদ্ধি আঁটা সহজ, ছোটরা; কিন্তু সেই বুদ্ধি কাজে করে দেখানোই আসল।” সেই ঘণ্টা আর কোনোদিন কারও গলায় বাঁধা হলো না। আচ্ছা, তুমি বলো তো — বলা সহজ, নাকি করা?