বনের রাজা সিংহ। দুপুরের রোদে বটগাছের ছায়ায় আরাম করে ঘুমাচ্ছিল সে। নাক ডাকছিল — ঘড়ড়… ঘড়ড়… এমন সময় কোত্থেকে এল ছোট্ট এক ইঁদুর — তিড়িংবিড়িং, তিড়িংবিড়িং, লাফাতে লাফাতে খেলছিল ঘাসের ওপর।
খেলতে খেলতে ইঁদুর উঠে পড়ল একেবারে সিংহের নাকের ওপর! রাজার ঘুম ভেঙে গেল। হালুম! — বিশাল থাবায় সে চেপে ধরল ইঁদুরকে। ইঁদুর কাঁপতে কাঁপতে বলল — “মাফ করে দিন, মহারাজ! ছেড়ে দিলে একদিন আমিও আপনার উপকার করব।”
শুনে সিংহ তো হেসে খুন! — “তুমি? এইটুকুন ইঁদুর, করবে আমার উপকার? হা হা হা!” হাসতে হাসতে সে থাবা তুলে নিল। — “যাও, ছেড়ে দিলাম।” ইঁদুর মাথা নুইয়ে বলল — “এই দয়া আমি কোনোদিন ভুলব না।”
কিছুদিন পরের কথা। শিকারিরা বনের ভেতর জাল পেতে রেখেছিল। সন্ধ্যাবেলা সেই জালে আটকা পড়ল সিংহ! যত ছোটাছুটি করে, জাল তত জড়িয়ে ধরে। রাজা গর্জে উঠল — “কে কোথায় আছ? আমাকে বাঁচাও!” সেই গর্জনে কেঁপে উঠল গোটা বন।
সেই ডাক শুনতে পেল ছোট্ট ইঁদুর। ছুটল সে — ছুটল তো ছুটল, একেবারে জালের ওপর গিয়ে থামল। — “ভয় নেই মহারাজ, আমি এসেছি!” বলেই ধারালো দাঁতে দড়ি কাটতে লাগল — কুটকুট! কুটকুট! এক দড়ি… দুই দড়ি… তিন দড়ি…
ভোরের আলো ফোটার আগেই জাল গেল ছিঁড়ে! সিংহ বেরিয়ে এল — মুক্ত! সে অবাক হয়ে বলল — “এতটুকু তুমি, অথচ তুমিই আজ আমাকে বাঁচালে!” ইঁদুর হেসে বলল — “বলেছিলাম না মহারাজ, একদিন আমিও উপকার করব?”
সেদিন থেকে সিংহ আর ইঁদুর হলো প্রাণের বন্ধু। সূর্য ডোবার বেলায় রাজা সারা বনকে ডেকে বলল — “শোনো সবাই! ছোট বলে কেউ ছোট নয়, আর দয়া কখনো বৃথা যায় না।”