নদীর ধারে এক মস্ত জামগাছ। সেই গাছে থাকে এক বানর — সারা দিন লাফায়, দোল খায়, আর পাকা পাকা জাম খায়। মিষ্টি জাম টুপ করে পড়ে পানিতে — ছলাৎ! বানরের কী মজা!
একদিন গাছের নিচে এল এক কুমির। ক্লান্ত, পেটে ভীষণ খিদে। বানর টুপটাপ জাম ফেলে দিল — “খাও তো বন্ধু!” কুমির খেয়ে অবাক — “ওমা! এ যে মধুর চেয়েও মিষ্টি!” সেই থেকে রোজ আসে কুমির, রোজ জমে দুই বন্ধুর গল্প।
কুমির কিছু জাম নিয়ে গেল বউয়ের জন্য। বউ খেয়ে বলল — “যে রোজ এমন মিষ্টি জাম খায়, তার মনটা না জানি কত মিষ্টি! আমি বানরের মন খাব। এনে দাও!” কুমির চমকে উঠল। বন্ধুর সঙ্গে এমন কাজ! কিন্তু বউয়ের জেদ — শেষে রাজি হলো সে।
পরদিন কুমির বলল — “বন্ধু, আজ আমার বাড়িতে দাওয়াত। পিঠে চড়ো, ওপারে নিয়ে যাই।” বানর খুশিতে লাফিয়ে উঠল কুমিরের পিঠে। কুমির সাঁতার কাটে — ছলাৎ… ছলাৎ… ঢেউ ভেঙে ভেঙে এগোয়। নদীর মাঝখানে এসে সে হঠাৎ থেমে গেল।
চারদিকে শুধু গভীর পানি। কুমির ভারী গলায় বলল — “বন্ধু, মাফ করো। আমার বউ তোমার মিষ্টি মনটা খেতে চায়। তাই নিয়ে যাচ্ছি তোমায়।” বানরের বুক ধক করে উঠল! কিন্তু সে কাঁদল না, চেঁচাল না। চুপটি করে ভাবতে লাগল — উপায়… উপায়… একটা উপায় চাই-ই।
হঠাৎ বানর হেসে ফেলল — “ও, এই কথা? আগে বলবে তো! মন তো আমি জামগাছের কোটরে রেখে এসেছি। চলো, ফিরে গিয়ে নিয়ে আসি।” বোকা কুমির সাঁই সাঁই করে ফিরে চলল। ডাঙায় আসতেই বানর এক লাফে গাছে! — “বোকা বন্ধু! মন কি খুলে রাখা যায়? ও তো থাকে বুকের ভেতরে!”
কুমির মাথা নিচু করে বলল — “মাফ করে দাও, ভাই। লোভে পড়ে বন্ধুকে ঠকাতে গিয়েছিলাম।” বানর হেসে টুপটাপ জাম ফেলে দিল — “নাও, বউয়ের জন্যও নাও। মিষ্টি ভাগ করে খেলেই মন মিষ্টি হয়।” সেদিন থেকে নদীর ধারে সবাই জানে — বিপদে ভয় নয়, ঠান্ডা মাথায় ভাবলেই পথ মেলে।