গভীর বনের ধারে থাকে দুই বন্ধু — কাঠবিড়ালি আর খরগোশ। কাঠবিড়ালি রোজ লেজ ফুলিয়ে বলে — «যত বড় বিপদই আসুক, তোমাকে কক্ষনো একলা ফেলে যাব না!» খরগোশ হাসে — «জানি তো!»
একদিন দুজনে গেল বনের গভীরে — পাকা ফল খুঁজতে। গাছ হলো ঘন, আলো হলো কম। হঠাৎ ঝোপের ওপাশে শব্দ — থপ… থপ… থপ! খরগোশের কান খাড়া — «ও কীসের শব্দ?»
ঝোপ ফাঁক করে বেরিয়ে এল এক মস্ত ভালুক! কাঠবিড়ালি «ও মাগো!» বলে চোখের পলকে গাছের ডগায়! আর খরগোশ? সে তো গাছে চড়তেই পারে না। নিচে একদম একা — এখন উপায়?
খরগোশের মনে পড়ল নানির কথা — ভালুক নাকি মরা প্রাণী ছোঁয় না! অমনি সে শুয়ে পড়ল মাটিতে। চোখ বন্ধ, দম বন্ধ। ভালুক এগিয়ে আসে… থপ… থপ… বুকের ভেতর ঢিপঢিপ।
ভালুক ঝুঁকে পড়ল খরগোশের ওপর। শুঁক শুঁক — কান শুঁকল, গাল শুঁকল। তারপর কানের কাছে মুখ এনে কী যেন ফিসফিস করল। শেষে থপ থপ করে ফিরে গেল বনের ভেতরে।
ভালুক যেতেই কাঠবিড়ালি নেমে এল — লেজ নেমে গেছে। — «বন্ধু… ভালুক তোমার কানে কী বলল?» খরগোশ ধীরে বলল — «বলল, বিপদের দিনে যে পাশে থাকে, সে-ই আসল বন্ধু।»
কাঠবিড়ালির চোখে পানি — «মাফ করে দাও, ভাই। ভয় পেয়ে কথাই ভুলে গিয়েছিলাম।» খরগোশ কাঁধে হাত রাখল — «থাক না। এবার থেকে যা-ই আসুক — দুজন একসাথে।»