বনের রাজা ছিল এক বিশাল সিংহ। গায়ের জোরে তার সমান কেউ ছিল না — আর সেটা নিয়ে তার কী দেমাক! রোজ সে গর্জে উঠত — “হালুম! এই বনে আমার চেয়ে শক্তিশালী কেউ নেই! জোর যার, রাজত্ব তার!” শুনে সব পশু ভয়ে লুকিয়ে পড়ত।
এক গাছের ডালে বসে সব দেখছিল ছোট্ট এক বানর। উপর থেকে সে হেসে বলল — “মহারাজ, জোর তো আপনার অনেক। কিন্তু বুদ্ধি না থাকলে সেই জোর যে অন্ধ!” শুনে সিংহ রেগে আগুন — “কী! তুই, এইটুকুন বানর, আমাকে জ্ঞান দিস? নেমে আয় এক্ষুনি!”
বানর তো নামল না। মিটিমিটি হেসে বলল — “একটা শর্ত, মহারাজ। আমাকে যদি ধরতে পারেন, তবে আমি আপনার। কিন্তু পারবেন তো?” সিংহ হো-হো করে হেসে উঠল — “ধরব? এক লাফেই তোকে ধরে ফেলব! পালাবি কোথায়?” মনে মনে বানর ঠিক করে ফেলল তার ফন্দি।
শুরু হলো ছোটাছুটি! বানর লাফ দিল এক ডাল থেকে আরেক ডালে — সিংহ তেড়ে গেল পিছে পিছে। এক লাফ… আরেক লাফ… ছুটল তো ছুটল! গাছের গুঁড়িতে ধাক্কা, ঝোপে হুড়মুড়, কাঁটায় খোঁচা — দুদ্দাড়, দুদ্দাড়! বানর তরতর এগিয়ে গেল, পিছন ফিরে হাঁক দিল — “এদিকে, মহারাজ, এদিকে!”
শেষে বানর গিয়ে বসল এক কাদা-ভরা ডোবার ওপরের ডালে। “পারলে এবার ধরুন!” রাগে সিংহ সমস্ত শক্তি দিয়ে এক লাফ দিল — ঠিক তখনই বানর সুট করে সরে গেল পাশে! নিজের জোরেই সিংহ গিয়ে পড়ল ডোবায় — ছলাৎ! কাদায় আটকে সে আর নড়তেও পারল না।
হাঁপাতে হাঁপাতে সিংহ মাথা নিচু করল — “তুমিই ঠিক, বানর ভাই। এত জোর, তবু তোমার নাগালই পেলাম না!” বানর কিন্তু হাসল না। সে ডাক দিল সব পশুকে। সবাই মিলে একটা লতা ফেলে, টেনে টেনে তুলল রাজাকে — হেইয়ো, হেইয়ো!
সেদিন থেকে রাজা আর আগের মতো রইল না। দেমাক ছেড়ে সে হলো বানরের বন্ধু। সূর্য ডোবার বেলায় সিংহ মুচকি হেসে বানরকে বলল — “বুঝলাম, ভাই — গায়ের জোর নয়, বুদ্ধিই আসল জোর।” সারা বন সেই কথায় মাথা নাড়ল।