ভোরে খেতে ছড়ানো ধান দেখে নামল পায়রার ঝাঁক — আর ঝপাৎ, শিকারির জাল! সর্দার ডাকল — «ভয় নেই! এক… দুই… তিন — ওড়ো!» শত ডানা ঝাপটাল একসাথে — জালসুদ্ধ ঝাঁক উড়ে গেল আকাশে!
জালসুদ্ধ ঝাঁক নামল ইঁদুরের গর্তের মুখে। — «ইঁদুর ভাই, বাঁচাও!» ইঁদুর লেগে গেল — কুটকুট… কুটকুট… শেষ পায়রাও মুক্ত! ডাল থেকে দেখল এক কাক — ইস, এমন বন্ধু যদি আমারও থাকত!
কাক ডাকল — «ইঁদুর ভাই, বন্ধু হবে?» — «ওরে বাবা, কাক তো ইঁদুর খায়!» তবু কাক রোজ এল, খাবার ভাগ করল — ধীরে ধীরে ভয় গলে গেল। একদিন কাকের পিঠে চড়ে ইঁদুর উড়ে এল কচ্ছপের কাছে।
এক বিকেলে দুদ্দাড় ছুটে এল হরিণ — বুক ধুকপুক, পা কাঁপছে। — «শিকারি তাড়া করেছিল… পথ হারিয়েছি!» কচ্ছপ হেসে বলল — «এখানেই থাকো — আজ থেকে আমরা চারজন।»
এক সন্ধ্যায় হরিণ এল না। খুঁজতে গিয়ে ওরা দেখল — কাশবনের ধারে ফাঁদে বাঁধা! কাকের পিঠে এল ইঁদুর — কুটকুট… দড়ি ছিঁড়ল! কিন্তু তখনই দূরে — ধুপ… ধুপ… শিকারির পায়ের শব্দ!
সবাই পালাল — শুধু কচ্ছপ পারল না। ছোট ছোট পায়ে সে-ও তো এসেছিল বন্ধুকে বাঁচাতে। শিকারি তাকে থলেতে পুরে হাঁটা দিল। ঝোপের আড়াল থেকে তিন বন্ধু চেয়ে রইল — বুক পাথর।
ইঁদুর ফিসফিস করল — «হরিণ পথে মরার ভান করবে, কাক করবে ঠোকরানো!» তাই হলো। শিকারি থলে ফেলে ছুটল — হরিণ লাফিয়ে হাওয়া, ইঁদুর কেটে দিল থলে, কচ্ছপ টুপ করে পানিতে!
সেই রাতে দিঘির পানিতে চাঁদ, চারপাশে মিটিমিটি জোনাকি — গোল হয়ে বসা চার বন্ধু, কেউ হারায়নি। — «একা থাকলে আজ কেউই বাঁচতাম না।» — «আর একসাথে? কোনো ফাঁদই আমাদের আটকাতে পারে না!»