এক বনে থাকত এক খরগোশ। সে দৌড়াত হাওয়ার বেগে। আর সারাদিন সবাইকে শোনাত — “আমার মতো জোরে কেউ দৌড়াতে পারে না! কেউ না!”
একদিন এক কচ্ছপ ধীরে ধীরে এসে বলল — “চলো, দৌড় প্রতিযোগিতা হোক।” খরগোশ হেসে গড়িয়ে পড়ল। “তুমি? আমার সাথে? হা হা হা!”
শিয়াল হলো বিচারক। “এক… দুই… তিন!” — দৌড় শুরু! খরগোশ ছুটল বিদ্যুতের মতো। কচ্ছপ চলল ধীরে… ধীরে… এক পা… আরেক পা…
অনেক দূর এগিয়ে খরগোশ পিছনে তাকাল। কচ্ছপ তো দেখাই যায় না! “একটু ঘুমিয়ে নিই,” ভাবল সে। “উঠে দৌড়ালেও আমিই জিতব।” গাছের ছায়ায় সে ঘুমিয়ে পড়ল।
কচ্ছপ থামল না। রোদ উঠল — সে চলল। পথ কঠিন হলো — সে চলল। ক্লান্ত পা টেনে টেনে, এক পা… আরেক পা… ঘুমন্ত খরগোশকে পেরিয়ে সে এগিয়ে গেল।
হঠাৎ খরগোশের ঘুম ভাঙল। সে দৌড়াল প্রাণপণে — কিন্তু দেরি হয়ে গেছে! কচ্ছপ শেষ রেখা ছুঁয়ে ফেলেছে! সারা বন আনন্দে ফেটে পড়ল — “কচ্ছপ জিতেছে! কচ্ছপ জিতেছে!”
খরগোশ মাথা নিচু করে বলল — “আমি ভুল করেছি।” কচ্ছপ হেসে বলল — “ধীরে চলেছি, কিন্তু থামিনি।” মনে রেখো — ধীরে ধীরে এগোলেও, লেগে থাকলেই জেতা যায়।