জঙ্গলের ধারে ছিল এক বড় দিঘি — চাঁদের দিঘি। রাতে তার পানিতে চাঁদ মামার ছায়া টলমল করত। পাড়ে গর্ত খুঁড়ে থাকত একদল খরগোশ — সবচেয়ে ছোটটি ছিল সবচেয়ে বুদ্ধিমান।
এল ভীষণ খরা। হাতিদের পুকুর শুকিয়ে কাঠ। পিপাসায় কাতর হয়ে রাজা হুকুম দিল — «চলো, চাঁদের দিঘিতে!» ধুপ… ধুপ… ধুপ… মাটি কাঁপিয়ে এগিয়ে চলল হাতির পাল।
হুড়মুড় করে হাতির পাল এসে পড়ল দিঘির পাড়ে। পায়ের চাপে ভেঙে গুঁড়িয়ে গেল খরগোশের গর্তগুলো। ছানারা কেঁদে উঠল — «ঘরবাড়ি সব শেষ! এখন আমরা কোথায় যাব?»
এত বড় হাতির পালকে এইটুকুন খরগোশ কী করে থামাবে? সবাই যখন কাঁদছে, সে চুপ করে ভাবল… ভাবল… হঠাৎ চোখ দুটো ঝিলিক দিয়ে উঠল — «গায়ের জোরে যা হয় না, বুদ্ধিতে তা হয়।»
খরগোশ লাফিয়ে উঠল উঁচু এক পাথরের ওপর। বুক ফুলিয়ে বলল — «থামো, হাতির রাজা! আমি চাঁদ মামার দূত। তোমরা তাঁর দিঘির পানি ঘোলা করেছ — তিনি ভীষণ রেগে গেছেন!» রাজা থমকে দাঁড়াল।
খরগোশ রাজাকে নিয়ে গেল ঠিক পানির ধারে — «ওই দেখো, চাঁদ মামা নিজেই!» রাজা মাথা নোয়াতেই পানি কেঁপে উঠল, ছায়াটাও কেঁপে উঠল — যেন চাঁদ মামা রাগে থরথর করছেন! রাজার বুক ধক্!
— «মাফ করো, চাঁদ মামা! আমরা আর কখনো আসব না।» রাজা পা টিপে টিপে হাতির পাল নিয়ে ফিরে গেল। দিঘির পাড়ে খরগোশেরা আনন্দে ধেই ধেই করে নাচতে লাগল।