← সব গল্প
English

ফুলপাখি · Phulpakhi

চাঁদের দিঘি

The Moon Lake

🐇 খরগোশ🐘 হাতি🪔 পঞ্চতন্ত্র

প্রচণ্ড খরায় বড় বড় হাতির পাল হানা দিল খরগোশদের চাঁদের দিঘিতে, গুঁড়িয়ে দিল তাদের ঘরবাড়ি। তখন ছোট্ট কিন্তু বুদ্ধিমান খরগোশটি গায়ের জোরে নয়, বুদ্ধি দিয়ে — দিঘির পানিতে চাঁদের কাঁপা ছায়া দেখিয়ে — পুরো হাতির পালকে ফিরিয়ে দিল। পঞ্চতন্ত্রের চিরচেনা এক মজার নীতিগল্প, নতুন করে বাংলায়, শুধু ফুলপাখিতে।

👆 ছবির পশুপাখিকে ছুঁয়ে দেখো — ডাক শুনবে!

নিচে স্ক্রল করো, গল্প শুরু হোক…

দৃশ্য ১ / ৭

জঙ্গলের ধারে ছিল এক বড় দিঘি  চাঁদের দিঘি। রাতে তার পানিতে চাঁদ মামার ছায়া টলমল করত। পাড়ে গর্ত খুঁড়ে থাকত একদল খরগোশ  সবচেয়ে ছোটটি ছিল সবচেয়ে বুদ্ধিমান। 

দৃশ্য ২ / ৭

এল ভীষণ খরা। হাতিদের পুকুর শুকিয়ে কাঠ। পিপাসায় কাতর হয়ে রাজা হুকুম দিল  «চলো, চাঁদের দিঘিতে!» ধুপ… ধুপ… ধুপ… মাটি কাঁপিয়ে এগিয়ে চলল হাতির পাল। 

দৃশ্য ৩ / ৭

হুড়মুড় করে হাতির পাল এসে পড়ল দিঘির পাড়ে। পায়ের চাপে ভেঙে গুঁড়িয়ে গেল খরগোশের গর্তগুলো। ছানারা কেঁদে উঠল  «ঘরবাড়ি সব শেষ! এখন আমরা কোথায় যাব?» 

দৃশ্য ৪ / ৭

এত বড় হাতির পালকে এইটুকুন খরগোশ কী করে থামাবে? সবাই যখন কাঁদছে, সে চুপ করে ভাবল… ভাবল… হঠাৎ চোখ দুটো ঝিলিক দিয়ে উঠল  «গায়ের জোরে যা হয় না, বুদ্ধিতে তা হয়।» 

দৃশ্য ৫ / ৭

খরগোশ লাফিয়ে উঠল উঁচু এক পাথরের ওপর। বুক ফুলিয়ে বলল  «থামো, হাতির রাজা! আমি চাঁদ মামার দূত। তোমরা তাঁর দিঘির পানি ঘোলা করেছ  তিনি ভীষণ রেগে গেছেন!» রাজা থমকে দাঁড়াল। 

দৃশ্য ৬ / ৭

খরগোশ রাজাকে নিয়ে গেল ঠিক পানির ধারে  «ওই দেখো, চাঁদ মামা নিজেই!» রাজা মাথা নোয়াতেই পানি কেঁপে উঠল, ছায়াটাও কেঁপে উঠল  যেন চাঁদ মামা রাগে থরথর করছেন! রাজার বুক ধক্‌! 

দৃশ্য ৭ / ৭

 «মাফ করো, চাঁদ মামা! আমরা আর কখনো আসব না।» রাজা পা টিপে টিপে হাতির পাল নিয়ে ফিরে গেল। দিঘির পাড়ে খরগোশেরা আনন্দে ধেই ধেই করে নাচতে লাগল।