বনের ভেতর থপথপ করে হাঁটছে এক ভালুক। পেটে ভীষণ খিদে। নাক উঁচিয়ে শুঁকতে শুঁকতে চলল তো চলল — “কিছু একটা মিষ্টি গন্ধ… কোথায় যেন!” গাছের পাতায় রোদ চিকচিক করে, আর ভালুকের জিভে পানি।
এগিয়ে গিয়ে ভালুক থমকে দাঁড়াল। বড় এক গাছের ডালে ঝুলছে সোনালি এক মৌচাক! টুপ… টুপ… করে গড়িয়ে পড়ছে মধু। ভালুকের চোখ চকচক করে উঠল — “বাহ্! এত মধু! আজ পেট ভরে খাব।”
এমন সময় ভনভন করে উড়ে এল এক মৌমাছি, বসল ভালুকের নাকের ডগায়। “থামো ভায়া! এটা আমাদের ঘর। হাত দিও না, নইলে হুল ফোটাব!” ভালুক বিরক্ত হয়ে থাবা চালাল — “যাহ্, পুঁচকে একটা মাছি!” অমনি — ফুট! নাকে হুল ফুটিয়ে মৌমাছি ঢুকে গেল চাকে।
এক ফোঁটা হুলেই ভালুকের মাথায় আগুন! “আমাকে হুল ফোটানো? দেখাচ্ছি মজা!” রাগে গরগর করে ভালুক দুই পায়ে খাড়া হলো, থাবা তুলে ঝাঁপিয়ে পড়ল মৌচাকের উপর — খটাখট, ছিঁড়ে ফেলল গোটা চাক!
আর যায় কোথায়! গোটা চাক থেকে হুড়মুড় করে বেরিয়ে এল হাজার হাজার মৌমাছি — ভনভনভন! কালো-সোনালি এক ঝড়। কান, নাক, পিঠ — যেখানে পায় সেখানেই হুল! ভালুক থাবা ছুড়ে বাঁচতে চায়, কিন্তু হাজার মৌমাছির সঙ্গে কি পারা যায়?
প্রাণপণে দৌড় দিল ভালুক — দুদ্দাড়, দুদ্দাড়! গাছপালা ফেলে, ঝোপঝাড় ফেলে, সোজা গিয়ে ঝাঁপ দিল দিঘির পানিতে — ঝপাং! মৌমাছিরা আর নাগাল পেল না। পানির নিচে মুখ ডুবিয়ে হাঁপাতে লাগল বেচারা।
সন্ধে নামল দিঘির ধারে। ফুলে ঢোল নাক, সারা গায়ে জ্বালা — চুপচাপ বসে রইল ভালুক। মনে মনে বলল, “একটা হুল তো সয়েই নিতে পারতাম… নিজের রাগেই হাজার হুল ডেকে আনলাম।” সেই জ্বালা ভালুক আর কোনোদিন ভোলেনি।