গাঁয়ের ধারে ছোট্ট এক পুকুর। ভোরে তার পাড়ে বসে আছে এক বিড়ালছানা। বড় বিড়ালেরা তুলে আনছে চকচকে মাছ। ছানা জিভ চেটে নিল — «মা, আমিও মাছ খাব!»
মা বিড়াল বলল — «মাছ খেতে চাও? তাহলে নিজে ধরতে শেখো।» ছানা মুখ ভার করল। তবু আস্তে আস্তে এগোল পানির ধারে। উঁকি দিয়ে দেখল — নিচে রুপালি মাছ খেলে বেড়াচ্ছে।
একটা মোটা মাছ দেখেই ছানা থাবা বসাল — ঝপাং! ছিটকে উঠল পানি, সে ভিজে চুপচুপে। মাছটা? ছলাৎ করে পালিয়ে গেল! পাড়ে বসে এক ব্যাঙ মিটিমিটি হাসল — «এত সহজ নাকি?»
ছানা হাল ছাড়ল না। এক বার… আরেক বার… বার বার মাছ ফসকে যায়। তবু সে দেখতে শিখল — মাছ কেমন করে ঘোরে। আর শিখল চুপটি করে বসে থাকতে, পাথরের মতো।
চুপ! একটুও নড়ল না ছানা। ধীরে ধীরে একটা মোটা মাছ এল কাছে… আরও কাছে… খপ! বিদ্যুতের মতো থাবা চলল। এবার আর ফসকাল না! — «পেয়েছি! আমি পেয়েছি!»
মাছ মুখে নিয়ে ছানা ছুটল মায়ের কাছে। দুজনে ভাগ করে খেল। ম্যাও, কী যে মজা! — «মা, এই মাছটা সবচেয়ে মিষ্টি!» মা হেসে বলল — «কারণ এটা তুমি নিজে ধরেছ।»
সন্ধ্যা নামল পুকুরের পাড়ে। জোনাকিরা জ্বলল টিপটিপ, আকাশে উঠল গোল চাঁদ। মায়ের গা ঘেঁষে শুয়ে ছানা ফিসফিস করল — «কাল আবার মাছ ধরব, মা।»