← সব গল্পEnglish

ফুলপাখি · Phulpakhi

সাঁকোর উপর দুই ডাইনোসর

Two Dinosaurs on the Bridge

🦖 ডাইনোসর

গভীর খাদের উপর সরু এক সাঁকো — দুই পাশ থেকে উঠল দুই গোঁয়ার ডাইনোসর। কেউ এক পাও পিছাবে না! শিংয়ে শিংয়ে গুঁতো, তারপর ঝপাং — দুজনেই গিয়ে পড়ল নদীর জলে। গোঁয়ারগিরি ছেড়ে দেওয়ার এক মজার উপকথা, শুধু ফুলপাখিতে।

নিচে স্ক্রল করো, গল্প শুরু হোক…

দৃশ্য ১ / ৮

পাহাড়ের মাঝখানে গভীর এক খাদ, আর তার নিচ দিয়ে বইছে খরস্রোতা নদী  ছলাৎ! ছলাৎ! এপার থেকে ওপার যেতে আছে শুধু একটাই পথ  সরু একটা গাছের গুঁড়ি, খাদের উপর শুয়ে আছে সাঁকো হয়ে। এত সরু যে একসাথে দুজন কিছুতেই পার হতে পারে না। 

দৃশ্য ২ / ৮

এক পাশ থেকে গুঁড়িতে উঠল তিনশিং  মাথায় তিন-তিনটে শিং, পিছনে বড় এক চওড়া ঢাল। ঠিক তখনই উল্টো পাশ থেকে উঠল কাঁটামুকুট  মাথাজুড়ে কাঁটার মুকুট! ধুপ… ধুপ… এক পা… আরেক পা… মাঝ-সাঁকোয় এসে দুজন একেবারে মুখোমুখি! 

দৃশ্য ৩ / ৮

তিনশিং বলল  “সরে যাও! আমি আগে উঠেছি, আমি আগে যাব।” কাঁটামুকুট গলা চড়িয়ে বলল  “বাহ্ রে বাহ্! তুমিই বরং পিছাও। আমি কারও জন্য পিছু হটি না!” দুজনের কেউ এক পাও নড়ল না। 

দৃশ্য ৪ / ৮

নিচে নদী গুড়গুড় করে ডাকছে, তবু সেদিকে কারও কান নেই। “পিছাব না!” গর্জাল তিনশিং। “আমিও পিছাব না!” গর্জাল কাঁটামুকুট। দুজনে মাথা নিচু করল, শিং বাগিয়ে ধরল  দুই গোঁয়ার, কেউ একচুল হার মানবে না। 

দৃশ্য ৫ / ৮

তারপর  ধাক্কা! শিংয়ে শিংয়ে গুঁতো লাগল  ঠকাস! “এখনও সরবে না?!” চেঁচাল তিনশিং। সাঁকোটা দুলে উঠল, পায়ের তলায় গুঁড়ি কেঁপে উঠল মড়মড় করে। তবু একজনও থামল না! 

দৃশ্য ৬ / ৮

আর ঠিক তখনই  পা পিছলে গেল দুজনেরই! ঝপাং! ঝপাং! দুই গোঁয়ার ডাইনোসর গিয়ে পড়ল নদীর ঠান্ডা পানিতে! হাবুডুবু খেয়ে, ফোঁসফোঁস করে কোনোমতে তারা সাঁতরে উঠল পাড়ে  ভেজা, কাদা-মাখা, আর কাঁপতে কাঁপতে। 

দৃশ্য ৭ / ৮

ভেজা গায়ে দুজন উঠে দাঁড়াল  কিন্তু একজনও কারও দিকে তাকাল না। গা বেয়ে টপ… টপ… ঝরছে ঠান্ডা পানি। একটু আগের সেই গরম গোঁয়ারিটা যেন নদীর পানিতেই কোথায় মিলিয়ে গেছে। চারদিক চুপচাপ  শুধু নদীর মৃদু ছলাৎ। 

দৃশ্য ৮ / ৮

তারপর ধীরে ধীরে দুজন দুজনের দিকে তাকাল  আর হেসেই ফেলল! “একজন একটুখানি দাঁড়ালেই তো দুজনে শুকনো থাকতাম!” বলল তিনশিং। কাঁটামুকুট মাথা নাড়ল  “তুমি আগে যাও, ভাই। আমি দাঁড়িয়ে রইলাম।” আচ্ছা, তুমি হলে কী করতে  একটুখানি কি দাঁড়াতে?