পাহাড়ের মাঝখানে গভীর এক খাদ, নিচে খরস্রোতা নদী — ছলাৎ! ছলাৎ! এপার-ওপার যেতে আছে শুধু একটাই পথ — সরু এক গাছের গুঁড়ি। এত সরু যে একসাথে দুজন পার হতে পারে না।
এক পাশ থেকে গুঁড়িতে উঠল তিনশিং। ঠিক তখনই উল্টো পাশ থেকে উঠল কাঁটামুকুট। ধুপ… ধুপ… এক পা… আরেক পা… মাঝ-সাঁকোয় এসে দুজন একেবারে মুখোমুখি!
— «সরে যাও! আমি আগে উঠেছি, আমি আগে যাব।» — «বাহ্ রে বাহ্! তুমিই বরং পিছাও। আমি কারও জন্য পিছু হটি না!» দুজনের কেউ এক পাও নড়ল না।
নিচে নদী গুড়গুড় করে ডাকছে, তবু সেদিকে কারও কান নেই। — «পিছাব না!» — «আমিও পিছাব না!» দুজনে মাথা নিচু করল, শিং বাগিয়ে ধরল — দুই গোঁয়ার, কেউ একচুল হার মানবে না।
তারপর — ধাক্কা! শিংয়ে শিংয়ে গুঁতো লাগল — ঠকাস! — «এখনও সরবে না?!» সাঁকোটা দুলে উঠল, পায়ের তলায় গুঁড়ি কেঁপে উঠল মড়মড় করে। তবু একজনও থামল না!
আর ঠিক তখনই — পা পিছলে গেল দুজনেরই! ঝপাং! ঝপাং! দুই গোঁয়ার গিয়ে পড়ল নদীর ঠান্ডা পানিতে! কোনোমতে তারা সাঁতরে উঠল পাড়ে — ভেজা, কাদা-মাখা, কাঁপতে কাঁপতে।
ভেজা গায়ে দুজন উঠে দাঁড়াল — কিন্তু একজনও কারও দিকে তাকাল না। গা বেয়ে টপ… টপ… ঝরছে ঠান্ডা পানি। চারদিক চুপচাপ — শুধু নদীর মৃদু ছলাৎ।
তারপর ধীরে ধীরে দুজন দুজনের দিকে তাকাল — আর হেসেই ফেলল! — «একজন একটুখানি দাঁড়ালেই তো দুজনে শুকনো থাকতাম!» — «তুমি আগে যাও, ভাই। আমি দাঁড়িয়ে রইলাম।»