উঠানে দানা খুঁটতে খুঁটতে লাল মুরগি পেল এক মুঠো ধান। — «কে বুনবে আমার সঙ্গে?» — «আমি না।» «আমি না।» «আমি না।» — «বেশ, আমিই বুনব।»
এল আষাঢ়। টাপুর-টুপুর বৃষ্টি। ভিজে মুরগি বুনে চলল — এক পা, আরেক পা। চালার নিচে শুকনো কুকুর। — «ফসল কি নিজে নিজে হয়?»
অগ্রহায়ণে মাঠ ভরল সোনালি ধানে। — «কে কাটবে আমার সঙ্গে?» — «আমি না।» «আমি না।» «আমি না।» কাস্তে চলল কচ্ কচ্। সন্ধ্যায় উঠানে ধানের পাহাড়।
— «কে ভানবে আমার সঙ্গে?» — «আমি না! আমি না! আমি না!» ঢেঁকিতে পা পড়ল — ধুপ! ধাপ! ধুপ! ধাপ! শুনতে পাচ্ছ?
পৌষের হিম রাত। ছানারা ঘুমিয়ে কাদা। ডানা টনটন, চোখ ভারী — তবু মুরগি ভাপে বসায় পিঠা। একটা… দুটো…
ভোরে উঠান ভরল পিঠার গন্ধে — ভুরভুর! ছুটে এল তিনজন — «আমি খাব!» মুরগি শুধাল — «বুনল কে? কাটল কে? ভানল কে?» তিনটি মাথা নামল।
গরম পিঠা খেল মুরগি আর ছানারা। বেড়ার ওপারে তিনজন চুপ — গন্ধটুকুই ছিল তাদের ভাগ। পরের আষাঢ়ে আর ডাকতে হয়নি।