← সব গল্পEnglish

ফুলপাখি · Phulpakhi

ব্রেমেনের বাজিয়ের দল

The Town Musicians of Bremen

🫏 গাধা🐕 কুকুর🐈 বিড়াল🐓 মোরগ🌍 বিশ্বের গল্প

বুড়ো হয়েছে বলে সবাই ওদের তাড়িয়ে দিল — তাই গাধা, কুকুর, বিড়াল আর মোরগ চলল ব্রেমেন শহরে, বাজিয়ে হতে! কিন্তু বনের গভীরে ঐ আলো-জ্বলা টিনের ঘরে বসে আছে কারা? গ্রিম ভাইদের অমর লোককথা, নতুন করে বাংলায়। শুধু ফুলপাখিতে।

নিচে স্ক্রল করো, গল্প শুরু হোক…

দৃশ্য ১ / ৮

বুড়ো গাধা ভোলা আর বস্তা টানতে পারে না। মালিক গজগজ করল  “অকেজো গাধা, দূর হ!” ভোলার কান দুটো ঝুলে পড়ল, মাথা নামল মাটির দিকে  তারপর হঠাৎ কান খাড়া! “আমি ব্রেমেন শহরে যাব, বাজিয়ে হব  আমার গলাই আমার গান! চিঁ-হোঁ, চিঁ-হোঁ!” 

দৃশ্য ২ / ৮

মেঠো পথে জিভ বের করে হাঁপাচ্ছিল এক বুড়ো কুকুর, লেজটা ধুলোয় লুটোনো।  “আর শিকার ধরতে পারি না ভাই, মালিক আমায় তাড়িয়ে দেবে,” মাথা নামিয়ে বলল লালু। ভোলা হেসে বলল  “তাড়াক গে! চলো ব্রেমেন  আমি গাইব, তুমি বাজাবে  ঘেউ ঘেউ!” 

দৃশ্য ৩ / ৮

বটতলায় মনমরা বিড়াল মিনি  গোঁফ ঝুলে গেছে, ইঁদুর আর ধরতে পারে না; আর বেড়ার ওপর থরথর কাঁপছে মোরগ রঙিলা  কাল দাওয়াতে নাকি তাকেই রাঁধা হবে! ভোলা ডাকল  “চলো ব্রেমেন, সবাই মিলে বাজিয়ের দল!” চার বন্ধুর চার গলা  চিঁ-হোঁ! ঘেউ ঘেউ! মিঁয়াও! কক্কড়াকোঁ! বলো তো, চারটা গলা একসাথে ডাকলে কেমন শোনায়? 

দৃশ্য ৪ / ৮

রাত নামল, ব্রেমেন আর এলো না। ঘন বনের ভেতর পথ হারিয়ে চারজন চুপ  পেট খালি, গা ঠান্ডা; শুধু ঝিঁঝিঁ ডাকে  ঝিঁ… ঝিঁ… ঝিঁ…। বুড়ো বটগাছের নিচে ওরা গায়ে গা লাগিয়ে বসল, আর রঙিলা ফড়ফড় করে উড়ে বসল উঁচু ডালে, আঁধারে চোখ মেলে। 

দৃশ্য ৫ / ৮

হঠাৎ ডালের ওপর থেকে রঙিলা ডেকে উঠল  “কক্কড়াকোঁ! আলো!  যে আলো!” বাঁশঝাড়ের ফাঁকে ছোট্ট এক টিনের চালা ঘর, জানালাটা জ্বলছে সোনার মতো। উঁকি দিয়ে দেখে  টেবিলে গরম ভাত, মাছ ভাজা, ভাপা পিঠা, মুড়ি-গুড়… আর ঘিরে বসে আছে দস্যুর দল! মিনির গোঁফ টানটান হয়ে গেল  “খাবার আজ ওদের না, আমাদের।” 

দৃশ্য ৬ / ৮

পা টিপে টিপে ওরা জানালার নিচে এলো। ভোলার পিঠে উঠল লালু, লালুর পিঠে মিনি, আর সব্বার ওপরে ফুড়ুৎ করে রঙিলা  একটা আস্ত জন্তুর মিনার! ভোলা ফিসফিস করে বলল  “সবাই একসাথে  এক, দুই, তিন  বাজাও!” 

দৃশ্য ৭ / ৮

চিঁ-হোঁ-ও-ও! ঘেউ ঘেউ ঘেউ! মিঁয়া-আ-ও! কক্কড়াকোঁ-ও-ও!  চার গলা একসাথে ফেটে পড়ল, আর ঝনঝন করে কেঁপে উঠল জানালা। দস্যুরা দেখল জানালাজুড়ে আকাশছোঁয়া এক দৈত্যের ছায়া! “ওরে বাবারে, ভূ-ভূ-ভূত!”  ভাত ফেলে, পিঠা ফেলে, দুদ্দাড় করে ওরা ছুটল বনের আঁধারে। 

দৃশ্য ৮ / ৮

সেই রাতে চার বন্ধু পেট ভরে খেল  গরম ভাত, পিঠা, কুড়মুড়ে মুড়ি-গুড়, সব সাবাড়! তারপর কুপির নরম আলোয় কাঁথার ওপর গায়ে গা লাগিয়ে শুয়ে পড়ল  কান খাড়া, পেট গোল। ভোলা ঘুমঘুম গলায় বলল  “কে বলে আমরা অকেজো? আমরা ব্রেমেনের বাজিয়ের দল!” আর দস্যুরা? ভয়ে ওরা  ঘরের ছায়াও আর কোনোদিন মাড়ায়নি।