বুড়ো গাধা আর বস্তা টানতে পারে না। — «অকেজো গাধা, দূর হ!» গাধার কান ঝুলে পড়ল — তারপর হঠাৎ কান খাড়া! — «আমি ব্রেমেন যাব, বাজিয়ে হব! চিঁ-হোঁ, চিঁ-হোঁ!»
মেঠো পথে হাঁপাচ্ছিল এক বুড়ো কুকুর। — «আর শিকার ধরতে পারি না, মালিক তাড়িয়ে দেবে।» গাধা হেসে বলল — «তাড়াক গে! চলো ব্রেমেন — আমি গাইব, তুমি বাজাবে — ঘেউ ঘেউ!»
বটতলায় মনমরা বিড়াল — ইঁদুর আর ধরতে পারে না। বেড়ার ওপর থরথর কাঁপছে মোরগ — কাল নাকি তাকেই রাঁধা হবে! — «চলো ব্রেমেন, সবাই মিলে বাজিয়ের দল!» চিঁ-হোঁ! ঘেউ! মিঁয়াও! কক্কড়াকোঁ!
রাত নামল, ব্রেমেন আর এলো না। বনে পথ হারিয়ে চারজন চুপ — পেট খালি, গা ঠান্ডা; শুধু ঝিঁঝিঁ ডাকে। বটগাছের নিচে ওরা গায়ে গা লাগিয়ে বসল।
হঠাৎ মোরগ ডেকে উঠল — «কক্কড়াকোঁ! ঐ যে আলো!» বাঁশঝাড়ের ফাঁকে ছোট্ট এক ঘর, জানালা জ্বলছে সোনার মতো। উঁকি দিয়ে দেখে — গরম ভাত, ভাপা পিঠা… আর ঘিরে বসে দস্যুর দল!
পা টিপে টিপে ওরা এলো জানালার নিচে। গাধার পিঠে কুকুর, কুকুরের পিঠে বিড়াল, সব্বার ওপরে ফুড়ুৎ করে মোরগ — একটা আস্ত জন্তুর মিনার! গাধা ফিসফিস করল — «এক, দুই, তিন — বাজাও!»
চিঁ-হোঁ-ও-ও! ঘেউ ঘেউ! মিঁয়া-আ-ও! কক্কড়াকোঁ-ও-ও! ঝনঝন কেঁপে উঠল জানালা। দস্যুরা দেখল আকাশছোঁয়া এক দৈত্যের ছায়া! — «ওরে বাবারে, ভূ-ভূ-ভূত!» দুদ্দাড় ছুটল বনের আঁধারে।
সেই রাতে চার বন্ধু পেট ভরে খেল — গরম ভাত, পিঠা, সব সাবাড়! তারপর গায়ে গা লাগিয়ে শুয়ে পড়ল। গাধা ঘুমঘুম গলায় বলল — «কে বলে আমরা অকেজো? আমরা ব্রেমেনের বাজিয়ের দল!»