বেগুন গাছের কাঁটাভরা ডালে পাতা সেলাই করে বাসা বেঁধেছে এক টুনটুনি। ভেতরে তিন ছানা পিটপিট করে তাকায় — উড়তে এখনো শেখেনি। — «ভয় নেই সোনারা, মা আছি তো।»
সেই বাড়িতে ছিল এক বিড়াল — মস্ত থাবা, চকচকে চোখ। গাছের নিচে এসে জিভে ঠোঁট চেটে বলল — «কচি কচি ছানা! আজ আমার দাওয়াত!» বাসা কাঁপে খচমচ। টুনটুনির বুক ধুকপুক।
টুনটুনি কিন্তু পালাল না। ডালে নেমে মাথা নুইয়ে মিষ্টি সুরে বলল — «মহারানী! কী সুন্দর তোমার রূপ!» বিড়াল গোঁফে তা দিল, লেজ ফুলিয়ে বলল — «তা তো বটেই!» — তারপর চলে গেল।
রোজ রোজ বিড়াল আসে — «আজ কিন্তু খাব!» রোজ রোজ টুনটুনি মাথা নোয়ায় — «মহারানী, তোমার মতো দয়ালু আর কে আছে?» এদিকে ধীরে ধীরে ছানাদের ডানায় বল আসে। কে বেশি চালাক বলো তো?
সন্ধ্যা নামল। বেগুন পাতার ফাঁকে জ্বলে উঠল প্রথম তারা। টুনটুনি চুপটি করে ছানাদের পাকা ডানায় ঠোঁট বুলাল। — «আর একটা রাত, সোনারা।»
ভোরে — ফুড়ুৎ! ফুড়ুৎ! ফুড়ুৎ! তিন ছানা উড়ে বসল উঁচু তালগাছে। বিড়াল এসে দেখে বাসা খালি, শুধু কটা পালক। উপর থেকে টুনটুনি হাসল — «ও মহারানী, ওপরে তাকাও!»
রাগে বিড়ালের লেজ ফুলে ঢোল! ফোঁস করে সে লাফাল বেগুন গাছে — খালি কাঁটা আর কাঁটা! — «ওরে বাবা! উহ্! আহ্!» তারপর হুড়মুড় করে নিচে, ধুপ!
সোনালি বিকেলে তালগাছের মাথায় টুনটুনির পাশে তিন ছানা। নিচ দিয়ে মাথা নিচু করে ফিরছে বিড়াল — আর কোনোদিন সে ধারেকাছে আসেনি। — «মা, তুমি ভয় পাওনি?» — «পেয়েছি তো! তবু জিতেছি।»