কী ভীষণ গরম! জ্যৈষ্ঠ মাসের দুপুর, রোদে যেন আগুন ঝরছে। গাঁয়ের পথঘাট খটখটে শুকনো, কোথাও এক ফোঁটা পানি নেই। কালু কাক উড়তে উড়তে হাঁপিয়ে উঠল — গলা শুকিয়ে কাঠ। “উফ্, তেষ্টায় বুক ফেটে যাচ্ছে! একটু পানি কোথায় পাই?”
কালু এদিক-ওদিক খুঁজল। পুকুরটা শুকিয়ে চৌচির — পানি নেই। কলতলায় গিয়ে দেখল, কল শুকনো — পানি নেই। উঠোনের গামলাটাও খালি। এখানে নেই, ওখানে নেই… কোত্থাও এক ফোঁটা পানি নেই! কালুর মন খারাপ হয়ে গেল।
হঠাৎ — উঠোনের এক কোণে চোখ আটকে গেল! ওই তো, একটা মাটির কলসি! কালুর চোখ দুটো চকচক করে উঠল। “পানি! কলসিতে নিশ্চয়ই পানি আছে!” পাখা মেলে টুপ করে নেমে এল কলসির পাশে।
কিন্তু একী! কলসির তলায় সামান্য একটুখানি পানি, আর গলাটা সরু, লম্বা। কালু ঠোঁট ঢোকাল — নাগাল পেল না। আরও ঝুঁকল, আরও একটু… তবু ঠোঁট পানি ছুঁল না। “ইস! এত কাছে, তবু খেতে পারছি না!”
কালু চুপ করে বসে ভাবতে লাগল। ভাবল… ভাবল… এমন সময় চোখ পড়ল পাশে ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট নুড়িপাথরের দিকে। হঠাৎ মাথায় বুদ্ধি খেলে গেল — ঝিলিক! “পেয়েছি! নুড়ি ফেললে পানি উপরে উঠে আসবে!” আচ্ছা বলো তো, বুদ্ধিটা কেমন?
কালু একটা নুড়ি তুলে কলসিতে ফেলল — টুপ! আরেকটা — টুপ! এক টুকরো… আরেক টুকরো… ধীরে ধীরে পানি একটু একটু করে উপরে উঠতে লাগল। কালু থামল না, ফেলেই চলল — টুপ… টুপ… টুপ…!
এইবার পানি উঠে এল একদম কলসির মুখে! কালু ঠোঁট ডুবিয়ে ঢকঢক করে পানি খেল — আহ্, কী ঠান্ডা, কী মিষ্টি! তেষ্টা মিটল, মনটাও জুড়িয়ে গেল। কালু বুঝল — গায়ের জোরে যা হয় না, একটু একটু করে লেগে থাকলে বুদ্ধি ঠিক তা করে দেয়।