শীতের সকাল। গাঁয়ের মেলা থেকে কে যেন ফেলে গেছে একটা ভাপা পিঠা! কাক সেটা কুড়িয়ে পেল — আহ্, এখনো গরম, ধোঁয়া উঠছে! পিঠা ঠোঁটে নিয়ে সে উড়ে বসল বটগাছের ডালে। ভাবল — “আরাম করে খাব।”
নিচ দিয়ে যাচ্ছিল এক শিয়াল। ভাপা পিঠার গন্ধ নাকে আসতেই সে থমকে দাঁড়াল। উঁচুতে তাকিয়ে দেখে — কাকের ঠোঁটে পিঠা! শিয়ালের জিভে পানি এসে গেল। মনে মনে বলল — “উপায় একটা আছে। মিষ্টি কথার জাদু!”
শিয়াল গাছের নিচে বসে ডাকল — “ওগো কাক ভাই! তোমার পালকগুলো যেন কালো হীরা! আর তোমার গলা? শুনেছি কোকিলও নাকি তোমার কাছে হার মানে। একটা গান শোনাও না, ভাই!” শুনে কাকের বুক ফুলে উঠল।
কাক আর থাকতে পারল না। গলা ছেড়ে গাইল — “কা-আ-আ!” অমনি ঠোঁট থেকে পিঠা পড়ল — টুপ! শিয়াল খপ করে লুফে নিল। — “ধন্যবাদ ভাই! গানের দাম এই পিঠা!” বলে হাসতে হাসতে সে বসল গাছের গোড়ায়, আয়েশ করে খাবে বলে।
কাকের প্রথমে কান্না পেল। তারপর? তারপর সে ভাবল। ভাবল… ভাবল… আর চোখ দুটো চকচক করে উঠল! সে নেমে এসে বলল — “বাহ্ শিয়াল ভাই, কী বুদ্ধি তোমার! সবাই বলে তোমার গানের গলা নাকি আরও মিষ্টি। সে কি আর সত্যি?”
শিয়ালের লেজ ফুলে উঠল গর্বে। — “সত্যি না মানে? শোনো তবে!” মুখ খুলে সে ধরল গান — “হুক্কা হুয়া-আ-আ!” অমনি পিঠা মাটিতে! ছোঁ মেরে কাক তুলে নিল আকাশে। শিয়াল হাঁ করে তাকিয়ে রইল — তারপর নিজেই হেসে ফেলল।
কাক ফিরে এল। পিঠা ভেঙে অর্ধেক দিল শিয়ালকে — “নাও ভাই। মিষ্টি কথায় দু'জনেই তো ভুলেছি!” সূর্য ডোবার আলোয় দু'জন ভাগ করে খেল গরম ভাপা পিঠা। আর বলো তো, সেদিনের আসল বুদ্ধিমান কে?