গাঁয়ের এক নেড়ি কুকুরছানা একদিন পেয়ে গেল মস্ত এক হাড়! খুশিতে তার লেজ নড়ে — দুলদুল! মুখে হাড় নিয়ে সে ছুটল নিরিবিলি এক জায়গায়, একা একা চিবোবে বলে। “আহা, আজ কী মজাই না হবে!”
বাড়ি ফেরার পথে পড়ল খালের ওপর সরু এক বাঁশের সাঁকো। হাড়টা মুখে শক্ত করে চেপে, টুকটুক পায়ে সাঁকোয় উঠল কুকুরছানা। নিচে টলটল করছে খালের পানি। আর একটুখানি — তারপরই বাড়ি!
সাঁকোর মাঝখানে এসে সে নিচে তাকাল। আরে! পানির ভেতরে আরেকটা কুকুর! তার মুখেও তো একটা হাড়! কুকুরছানা তো জানেই না — ওটা যে তারই ছায়া। সে অবাক হয়ে ভাবল, “এ আবার কে এল?”
ভালো করে তাকিয়ে কুকুরছানার চোখ চকচক করে উঠল। “আরে, ওই হাড়টা তো আমারটার চেয়ে অনেক বড়! ওটাও যদি পেতাম…” লোভে তার জিভে পানি এসে গেল। নিজেরটা ভুলে সে ভাবতে লাগল — কেমন করে ওটা কেড়ে নেওয়া যায়।
ওই হাড়টা কাড়তে কুকুরছানা “ঘেউ!” করে মুখ খুলল — অমনি তার নিজের হাড়টা পড়ল খালের পানিতে — ঝপাং! ডুবে গেল হাড়! সঙ্গে সঙ্গে পানির কুকুরটাও হাওয়া! খালি মুখ, অবাক চোখ — হায় হায়!
টলমল পানির দিকে চেয়ে কুকুরছানা বুঝল — ওমা! আরেকটা কুকুর তো ছিলই না! ওটা ছিল তার নিজেরই ছায়া। লোভ করতে গিয়ে নিজের হাড়টাই হারাল সে। মন খারাপ করে চুপটি বসে রইল সাঁকোর ধারে।
সন্ধ্যেবেলা মন খারাপ করে বাড়ি ফিরল কুকুরছানা। তার ছোট্ট বন্ধু এক টুকরো রুটি ভাগ করে দিল। অল্প হলেও, দুজনে মিলে খেতে কী যে ভালো লাগল! তাইতো বড়রা বলে — যা আছে, তাতেই খুশি থাকো।