ভোরে সবচেয়ে বড় পদ্মপাতায় বসে ব্যাঙ বুক ফুলিয়ে ডাকল — «গ্যাঙর-গ্যাঙ! এই বিলে আমার চেয়ে বড় ব্যাঙ আর একটাও নেই!» দুই বন্ধু মুখ চাওয়াচাওয়ি করে হাসল।
হঠাৎ থপ… থপ… থপ! মাটি কাঁপিয়ে বিলে নামল জলহস্তী — পাহাড়ের মতো বিশাল! এক বন্ধু ফিসফিস করল — «তুমি নাকি সবচেয়ে বড়? এর পাশে তুমি তো একটা সরষে দানা!»
জেদ চেপে গেল ব্যাঙের। বুক ভরে বাতাস টানল — ফুস্! — «দেখো, আমিও অত বড় হতে পারি!» জলহস্তী নরম চোখে বলল — «থাক না ভাই। ব্যাঙ হয়েই তো তুমি কত সুন্দর!»
ব্যাঙ আবার বাতাস টানল — হুউউশ! আরও… আরও… আরও ফুলল! পেটটা হয়ে গেল ছোট্ট একটা বেলুন। — «থামো, আর ফুলিয়ো না!» কিন্তু গর্বে ব্যাঙ থামল না।
আর জানো কী হলো? ঠিক তখনই — ফুস্স্স! সব বাতাস এক নিমেষে বেরিয়ে গেল! চুপসে গিয়ে ব্যাঙ পিছলে পড়ল পদ্মপাতা থেকে — থপাস, সোজা কাদায়!
সন্ধ্যা নামল। কাদায় বসে ব্যাঙ আর মুখ তুলল না — বুকটা ছোট্ট, চোখে পানি টলমল। বিলের পানিতে শুধু ছলাৎ… ছলাৎ… আর কেউ কিছু বলল না।
জলহস্তী বড় নরম করে মাথাটা নামাল, চওড়া নাকের ওপর তুলে নিল ব্যাঙটাকে — «বড় হওয়া মানে ফুলে ওঠা নয়। নিজে যেমন, তেমন থেকেই তুমি সেরা।» চাঁদের আলোয় ব্যাঙ ছোট্ট করে হাসল।