এক ছিল ছোট্ট সবুজ ব্যাঙ। থাকত এক পুরোনো কুয়োর ভেতর। শেওলা-ধরা ঠান্ডা দেয়াল, এক চিলতে পানি — এটুকুই তার দুনিয়া। উপরে গোল একটুকরো আকাশ দেখে সে ভাবত, “এই তো গোটা আসমান!”
সারাদিন সে গলা ফুলিয়ে ডাকত — ঘ্যাঙর-ঘ্যাঙ! ঘ্যাঙর-ঘ্যাঙ! “এই কুয়োই আমার রাজ্য! এর চেয়ে সুন্দর জায়গা আর নেই!” একটা মাছি উড়ে এলে — টুপ! জিভ দিয়ে ধরে খেয়ে নিত। বাহ্, কী আরাম!
একদিন — ঝপাং! কুয়োয় এসে পড়ল আরেকটা ব্যাঙ। ভিজে, ক্লান্ত। “তুমি কোত্থেকে এলে, ভাই?” “অনেক দূরের সমুদ্র থেকে। কী যে বিশাল পানি — যেদিকে তাকাই, শেষ নেই!”
শুনে কুয়োর ব্যাঙ হেসেই বাঁচে না। “আমার কুয়োর চেয়েও বড়? অসম্ভব! এত বড় পানি কোত্থাও হয় নাকি?” সমুদ্রের ব্যাঙ শান্ত গলায় বলল — “বিশ্বাস হচ্ছে না? তাহলে নিজের চোখেই দেখো। চলো, উপরে উঠি।”
কৌতূহল আর চেপে রাখা গেল না। দুই বন্ধু উঠতে লাগল শেওলা-পিছল দেয়াল বেয়ে। এক লাফ… আরেক লাফ… পা পিছলায়, তবু থামে না। ধীরে… ধীরে… উপরের আলোর দিকে এগোতে থাকল তারা।
কুয়োর কিনারায় উঠেই ব্যাঙ থ! সামনে — আহা! গোটা একটা দুনিয়া। সবুজ মাঠ, বয়ে চলা নদী, আর বহু দূরে অথৈ সমুদ্র — চিকচিক করছে রোদে। “এত… এত বড়!” মুখে আর কথা সরে না।
সূর্য ডুবছে বিশাল দুনিয়ার ওপারে। কুয়োর ব্যাঙ চুপ করে রইল, তারপর হেসে ফেলল — “আমি ভাবতাম আমার কুয়োটাই গোটা দুনিয়া! সত্যিই আমি ছিলাম কুয়োর ব্যাঙ। এখন বুঝি — দুনিয়াটা ভাবনার চেয়েও অনেক বড়।”