সাল বনের ঝিল আয়নার মতো শান্ত। পানি খেতে এসে হরিণ দেখল নিজের ছায়া। — «আমার শিং দুটো কী সুন্দর!»
মাছরাঙা মাথা কাত করল — «শিং তো ছবির মতো। কিন্তু দৌড়ায় কে? ওই সরু ঠ্যাং দুটোই তো!» লজ্জায় হরিণ পা লুকাল ঘাসে।
হুড়মুড় করে উড়ে গেল পাখিরা। দূরে — ঘেউ… ঘেউ! হরিণ থমকে দাঁড়াল, দম বন্ধ। মাছরাঙা চেঁচাল — «দৌড়াও!» পারবে তো?
সেই সরু ঠ্যাং দুটোই যেন ডানা! এক লাফ, আরেক লাফ — খাল পার! মাছরাঙা পথ দেখাল — «বাঁয়ে যাও, বাঁয়ে!»
বেতঝোপে ঢুকতেই — খটাস! গর্বের শিং আটকে গেল ডালে। মাছরাঙা চেঁচাল — «মাথা নিচু করো, মোচড় দাও!» ছাড়া পেল — শিঙের একটা ডাল রয়ে গেল ঝোপেই।
সন্ধে নামল। পা কাঁপছে, শিঙের একদিক ভাঙা। হরিণ চেয়ে রইল নিজের সরু পা দুটোর দিকে। কিছু বলল না। মাছরাঙাও চুপ।
জোনাকি জ্বলল ঝিলের ধারে। হরিণ দাঁড়াল বুক টান করে — পানিতে এবার আগে ভাসল সরু পা দুটোই। — «সাজ নয়, কাজেই আসল পরিচয়।» মাছরাঙা বসল ভাঙা শিঙে।