রাতের আকাশে মিটিমিটি জ্বলত ছোট্ট এক তারা — তার নাম মিটি। ঠিক পাশেই বিরাট, ঝলমলে চাঁদ মামা। মিটি মন খারাপ করে বলল — “চাঁদ মামা, তোমার কত বড় আলো! আর আমি তো এইটুকুন। আমার আলো দিয়ে কী-ই বা হবে?” চাঁদ মামা শুধু মুচকি হাসল।
হঠাৎ গুড়গুড় করে এল এক মস্ত কালো মেঘ। ধীরে… ধীরে… সে ঢেকে দিল চাঁদ মামাকে। বড় আলোটা নিভে গেল! চারিদিক ঘুটঘুটে অন্ধকার। মিটি ভয়ে কেঁপে উঠল — “চাঁদ মামা! তুমি কোথায়?” মেঘের ভেতর থেকে চাপা গলায় চাঁদ মামা বলল — “আমি যে আটকা পড়ে গেছি, মিটি!”
নিচে গ্রামের পুকুরে তখন প্যাঁক প্যাঁক করে কাঁদছে এক ছোট্ট হাঁসছানা। আঁধারে সে মাকে হারিয়ে ফেলেছে! কোন দিকে পাড়, কোন দিকে বাসা — কিচ্ছু দেখা যায় না। “মা… ও মা… কোথায় তুমি?” পাড় থেকে মা হাঁস ডাকল — “এই তো আমি, সোনা! আলোর দিকে আয়!” কিন্তু তুমিই বলো — এত আঁধারে আলো আসবে কোথা থেকে?
চাঁদ মামা ব্যাকুল হয়ে ডাকল — “মিটি, এখন তো তুমিই ভরসা! তোমার আলোটুকু জ্বালো, মা!” মিটির বুক দুরুদুরু — “আমার এইটুকু আলোয় কি হবে?” তবু সে প্রাণপণে চাপ দিল মেঘের গায়ে — আর একটু… আর একটু… টুপ করে ফুটো গলে বেরিয়ে এল তার সরু সোনালি আলো!
মিটির সরু আলো এসে পড়ল পুকুরের পানিতে — ঝিকমিক, ঝিকমিক! অন্ধকার পানির ওপর তৈরি হলো সরু এক সোনালি পথ। হাঁসছানা চোখ বড় বড় করে দেখল — “ওই তো পথ!” তারপর ছলাৎ ছলাৎ করে আলো ধরে সাঁতরে গেল সোজা মায়ের ডানার ভেতর।
একটু পরে মেঘটা সরে গেল। চাঁদ মামা আবার ঝলমল করে হাসল — কিন্তু আজ সবচেয়ে বেশি হাসল মিটির দিকে চেয়ে। “দেখলে মিটি? আমার এত বড় আলো মেঘে ঢাকা পড়ল, আর তোমার ছোট্ট আলোই পথ দেখাল!” খুশিতে মিটি আগের চেয়েও উজ্জ্বল হয়ে ঝিলমিল করে জ্বলে উঠল।
সেই রাত থেকে মিটি আর কখনো নিজেকে ছোট ভাবেনি। নিচে, পুকুরপাড়ে মায়ের ডানার নিচে শান্তিতে ঘুমিয়ে আছে হাঁসছানা। আর ওপরে, চাঁদ মামার পাশে, মিটিমিটি জ্বলছে এক ছোট্ট তারা — যার আলো ছোট, কিন্তু ভীষণ দরকারি।