রাতের আকাশে মিটিমিটি জ্বলে ছোট্ট এক তারা। পাশেই বিরাট, ঝলমলে চাঁদ মামা। — «তোমার কত বড় আলো! আমার এইটুকু আলো দিয়ে কী হবে?» চাঁদ মামা শুধু মুচকি হাসল।
হঠাৎ গুড়গুড় করে এল মস্ত কালো মেঘ। ধীরে… ধীরে… ঢেকে দিল চাঁদ মামাকে। ঘুটঘুটে অন্ধকার! — «চাঁদ মামা, তুমি কোথায়?» — «আমি যে আটকা পড়ে গেছি!»
নিচে পুকুরে প্যাঁক প্যাঁক করে কাঁদছে এক হাঁসছানা — আঁধারে মাকে হারিয়েছে। পাড় থেকে মা ডাকল — «আলোর দিকে আয়, সোনা!» কিন্তু এত আঁধারে আলো আসবে কোথা থেকে?
চাঁদ মামা ডাকল — «এখন তো তুমিই ভরসা! আলোটুকু জ্বালো!» — «আমার এইটুকু আলোয় কি হবে?» তবু সে প্রাণপণে চাপ দিল মেঘে — টুপ! ফুটো গলে বেরোল সরু সোনালি আলো।
সেই আলো পড়ল পুকুরের পানিতে — ঝিকমিক, ঝিকমিক! অন্ধকার পানির ওপর তৈরি হলো সরু এক সোনালি পথ। — «ওই তো পথ!» ছলাৎ ছলাৎ — হাঁসছানা সাঁতরে গেল মায়ের ডানার ভেতর।
মেঘটা সরে গেল। চাঁদ মামা আবার ঝলমল করে হাসল — কিন্তু আজ সবচেয়ে বেশি হাসল তারার দিকে চেয়ে। — «আমার বড় আলো মেঘে ঢাকা পড়ল, আর তোমার ছোট্ট আলোই পথ দেখাল!»
সেই রাত থেকে তারা আর কখনো নিজেকে ছোট ভাবেনি। নিচে মায়ের ডানার নিচে ঘুমায় হাঁসছানা। আর ওপরে, চাঁদ মামার পাশে, মিটিমিটি জ্বলে ছোট্ট এক তারা।