এক যে ছিল ছোট্ট সবুজ বন। একদিন সেখানে ভেসে এল ভারী এক শব্দ — ধুপ! ধুপ! ধুপ! মাটি কেঁপে উঠল, গাছ দুলে উঠল। বনের ধারে এসে দাঁড়াল এক বিশাল ডাইনোসর — পাহাড়ের মতো বড়!
ওমা! ভয়ে সবাই ছুটে পালাল। খরগোশ ঢুকল গর্তে, শিয়াল ঝোপে, কচ্ছপ নিজের খোলসে। সবাই ফিসফিস করল — «এত বড়! নিশ্চয়ই রাক্ষস! কেউ কাছে যেও না!»
শুধু ভয় পেল না ছোট্ট টুনটুনি। সে উড়ে চলল — কাছে… আরও কাছে… তারপর টুপ করে বসে পড়ল ডাইনোসরের নাকের ওপর! — «এই যে বিশাল ভাই! তুমি এখানে একা একা কী করছ?»
ডাইনোসর নরম গলায় বলল — «আমি বন্ধু খুঁজতে এসেছি। কিন্তু আমাকে দেখলেই সবাই পালিয়ে যায়।» তার বড় চোখ ছলছল করে উঠল। — «কেঁদো না ভাই। আজ থেকে আমি তোমার বন্ধু!»
কদিন পরেই এল ভীষণ ঝড়। হু-হু বাতাস, ঝমঝম বৃষ্টি। গাছ নুয়ে পড়ল, পাখির বাসা ভেঙে পড়ল। ছোট প্রাণীরা ভিজে কাঁপতে লাগল — এখন আমরা কোথায় যাই?
টুনটুনি চেঁচিয়ে ডাকল — «এদিকে! সবাই আমার বন্ধুর কাছে এসো!» ডাইনোসর পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে রইল, আর তার বিশাল শরীরের নিচে জড়ো হলো সবাই। বৃষ্টি নেই, ঝড় নেই।
সকালে ঝড় থামল, ঝিলমিল রোদ উঠল। সবাই মাথা নিচু করে বলল — «তোমাকে না জেনেই ভয় পেয়েছিলাম। মাফ করে দাও, বন্ধু।» টুনটুনি গেয়ে উঠল — «চেহারা দেখে ভয় নয়, মন ভালো হলেই বন্ধু!»
