গজু এক ছোট্ট হাতি। ছোট্ট, তবু সে দৌড়ালে গোটা বন কাঁপে — থপথপ! থপথপ! গজুর খেলতে ভীষণ ভালো লাগে, তাই সারাদিন সে ছুটে বেড়ায়। বনের সবাই হেসে বলে — “আস্তে গজু, আস্তে! দেখে চলো, ভাই!”
একদিন একটা রঙিন প্রজাপতির পেছনে ছুটছিল গজু। সামনে কী আছে, দেখেইনি! হুড়মুড়! — সোজা গিয়ে পড়ল কচ্ছপ নানির ফুলবাগানে। ফুলগুলো সব ভেঙে মাটিতে মিশে গেল। “ও মা!” — গজুর বুকটা ছ্যাঁৎ করে উঠল।
গজু এদিক তাকাল, ওদিক তাকাল — কেউ দেখেনি! সে চুপিচুপি পিছিয়ে গেল… থপ… থপ… থপ… তারপর বড় বটগাছটার আড়ালে গিয়ে লুকাল। বুকের ভেতর ঢিপঢিপ, ঢিপঢিপ। “কাউকে বলব না,” — ফিসফিস করে বলল গজু। “কেউ তো দেখেনি!”
খবর পেয়ে সবাই ছুটে এল। ভাঙা বাগান দেখে কচ্ছপ নানির চোখে পানি — “এত যত্নের ফুল আমার!” খরগোশ রেগে বলল — “কে করল এমন কাজ? নিশ্চয়ই দুষ্টু বানরগুলো!” গাছের আড়াল থেকে সব শুনল গজু। তার মনটা ভারী হলো… আরও ভারী… আরও ভারী…
আর থাকতে পারল না গজু। কান নামিয়ে, মাথা নিচু করে সে বেরিয়ে এল — “বানরেরা না, আমি ভেঙেছি। ভয়ে বলতে পারিনি। মাফ করে দাও, নানি।” বলতেই চোখ থেকে টুপ করে এক ফোঁটা পানি পড়ল। আর কী আশ্চর্য — বুকের পাথরটাও যেন নেমে গেল!
কচ্ছপ নানি হাসলেন — “ভুল তো সবাই করে, গজু। কিন্তু সত্যি বলার সাহস ক'জনের আছে? এসো, নতুন বাগান করি।” সবাই মিলে লাগল কাজে। কেউ বীজ বুনল, কেউ মাটি দিল। আর গজু? শুঁড় উঁচিয়ে ঝিরঝির করে পানি ছিটাল — যেন বৃষ্টি!
কিছুদিন পর সেখানে ফুটল আগের চেয়েও সুন্দর এক ফুলবাগান। রঙিন প্রজাপতিরা উড়ে উড়ে এল। গজু এখনো দৌড়ায়, তবে দেখে দেখে! আর মনে মনে বলে — “ভুল হতেই পারে। সত্যি বললেই মন হালকা।”