বনের সবচেয়ে বড় ডাইনোসর ছিল টি-রেক্স — বিশাল মাথা, ধারালো দাঁত, ছোট্ট দুটো হাত। সে হাঁটলেই মাটি কাঁপত — ধুপ! ধুপ! আর গর্জন শুনলেই সবাই দে দৌড়!
আর ছিল লম্বা গলার এক ব্রন্টোসরাস — পাহাড়ের মতো বড়, অথচ ভারি নরম মনের। উঁচু গাছের পাতা লম্বা গলায় পেড়ে সে ভাগ করে দিত ছোট ছোট ছানাদের।
একদিন টি-রেক্স এসে দাঁড়াল লম্বা-গলার সামনে। বুক ফুলিয়ে গর্জে উঠল — «সবাই আমাকে ভয় পায়! তুইও মাথা নিচু কর, নইলে—!» রাআআও! পাখিরা ফুরুৎ করে উড়ে গেল।
কিন্তু লম্বা-গলা একটুও ভয় পেল না। শান্ত চোখে তাকিয়ে সে বরং একটা রসালো পাতা এগিয়ে দিল — «চেঁচিয়ো না, বন্ধু। একটা খাবে নাকি?» টি-রেক্স থতমত খেয়ে গেল।
সন্ধ্যা নামল। লম্বা-গলাকে ঘিরে সবাই হাসছে, গল্প করছে। আর একটু দূরে, অন্ধকারে, একা বসে রইল টি-রেক্স। বুকের ভেতরটা কেমন খালি খালি লাগল।
পরদিন ঝড়ে এক ভারী গাছ পড়ে আটকে দিল ছানাদের পথ। লম্বা-গলাও নাড়াতে পারল না। তখন টি-রেক্স এগিয়ে এল — গায়ের সব জোরে হুমড়ি দিয়ে সরিয়ে দিল গাছটা! সবাই অবাক!
সেদিন থেকে ছানারা আর টি-রেক্সকে ভয় পেল না — ভালোবাসল। লম্বা-গলার পাশে বসে সে হেসে বলল — «ভয় দেখিয়ে যা পাইনি, একটুখানি ভালোবাসায় তা পেয়ে গেলাম।»