বনের সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে জোরালো ডাইনোসর ছিল গুড়ুম। সে হাঁটলেই মাটি কাঁপত — ধুপ! ধুপ! কিন্তু একদিন মাথার ওপর দিয়ে উড়ে গেল একঝাঁক ডানাওয়ালা ডাইনো। গুড়ুম থমকে দাঁড়াল, তার ছোট্ট হাত দুটো ঝুলে পড়ল। “ইস, আমিও যদি অমন উড়তে পারতাম!”
উঁচু এক পাহাড়চূড়ায় একলা বসে থাকত ছোট্ট উড়ুক্কু। আকাশজুড়ে শোঁ করে উড়ত সে, গোটা উপত্যকা দেখত — তবু এত্তটুকু বলে কেউ তাকে গোনায় ধরত না। নিচে বিশাল গুড়ুমকে দেখে উড়ুক্কু দীর্ঘশ্বাস ফেলল, “ইস, আমিও যদি অমন বড়, অমন জোরালো হতাম!”
একদিন উড়ুক্কু টুপ করে নামল গুড়ুমের সামনে। গুড়ুম বলল, “তোমার ওই দুটো ডানা আমায় দেবে, ভাই? আকাশটা একটিবার ছুঁয়ে দেখতাম!” উড়ুক্কু হেসে বলল, “তবে তুমি দাও তোমার ওই গায়ের জোর — তাহলে আর কেউ আমায় ঠেলে যাবে না!” দুজনেই হাসল, দুজনেরই মন খারাপ।
হঠাৎ এল বন্যা! কলকল করে ফুলে উঠল খাল, চারদিকে শুধু পানি আর পানি। মাঝখানে এক টুকরো পাথরে আটকে গেল ছোট্ট ডাইনো ছানারা। উড়ুক্কু উড়ে গেল কাছে — “আমি যে ওদের তুলতে পারি না, আমি বড্ড ছোট!” গুড়ুম পানির ধারে থমকে দাঁড়াল — “আমি জোরে পারি, কিন্তু অতদূর পৌঁছাতেই পারছি না!”
তখনই বুদ্ধি খেলে গেল দুজনের মাথায়! উড়ুক্কু উপরে উঠে দেখে নিল নিরাপদ পথ, চেঁচিয়ে ডাকল — “এদিকে, এদিকে!” আর গুড়ুম ছলাৎ করে নেমে পড়ল পানিতে — এক পা… আরেক পা… স্রোত ঠেলে বিশাল শরীরটা সাঁকোর মতো বাড়িয়ে দিল পাথর পর্যন্ত!
টুক টুক করে ছানারা পার হলো গুড়ুমের পিঠ বেয়ে, উড়ুক্কু উড়ে উড়ে সাহস জোগাল। তীরে পৌঁছেই সব্বাই আনন্দে লাফাতে লাগল! গুড়ুমের বড় শরীর, উড়ুক্কুর ছোট্ট ডানা — যা নিয়ে দুজনের এত মন খারাপ, সেই-ই তো আজ বাঁচিয়ে দিল সবাইকে।
সন্ধ্যেবেলা উড়ুক্কু এসে বসল গুড়ুমের নাকের ডগায়। গুড়ুম হেসে বলল, “আমার এই বড় শরীরটাই তো সবচেয়ে বড় উপহার!” উড়ুক্কু বলল, “আর আমার এই ছোট্ট ডানা দুটোও!” আচ্ছা বলো তো — তুমি ঠিক যেমন, তেমন থাকাটাই কি সবচেয়ে সুন্দর নয়?