সাগরপাড়ে ভোর। ঢেউ ভাঙে ছলাৎছল। কুক্কুরুক্কু-উ-উ! মাটির চুলায় পিঠা ভাজছে মোরগ — ছ্যাঁক-ছ্যাঁক, খেজুর গুড়ের মিষ্টি গন্ধ। «আহ্! আজ পেট ভরে খাব।»
হুড়মুড়! বালু কাঁপিয়ে এল গণ্ডার — «সরো!» এক গুঁতোয় চুলা উল্টে শিঙে গেঁথে নিল সব পিঠা। মোরগ উড়ে বসল নারকেল গাছে — «ভাই, চাইলেই তো দিতাম!» «হুঁহ্! গণ্ডার কাউকে বলে-টলে না।»
সেকালে গণ্ডারের চামড়া ছিল টানটান, আয়নার মতো মসৃণ — পেটের নিচে শুধু তিনটে বোতাম। পিঠা খেয়ে সে হেলেদুলে চলে গেল, ফিরেও তাকাল না। মোরগ চেয়ে রইল। আস্তে বলল — «আচ্ছা… দেখা যাবে।»
তারপর এল চৈত্রের গরম। উফ্, কী রোদ! গণ্ডার বোতাম খুলে চামড়াটা খুলেই ফেলল — বালুতে রেখে ঝুপ্পুস! ঠান্ডা পানিতে গলা ডুবিয়ে সে মহাখুশি। চামড়াটা পড়ে রইল একা।
চারদিক চুপচাপ, শুধু ঢেউয়ের ছলাৎছল। মোরগ নেমে এল। চুলার পাশে শুকনো পিঠার গুঁড়ো। খুঁটে খুঁটে, কুটকুট — সব গুঁড়ো সে ঢেলে দিল চামড়ার ভেতরে। ঝাঁকাল ভালো করে। «এবার হিসাব বরাবর।»
গণ্ডার এসে চামড়া পরল, বোতাম আটকাল। অমনি — কুটকুট! কুটকুট! বালুতে গড়াগড়ি, গাছে ঘষাঘষি — চুলকানি যায়ই না! ঘষতে ঘষতে চামড়ায় পড়ল বড় বড় ভাঁজ, বোতাম গেল ছিঁড়ে। কে করল কাণ্ডটা, বলো তো?
সেই থেকে গণ্ডারের গা-ভরা ভাঁজ, মেজাজও খিটখিটে — ভাঁজ আর কোনোদিন মিলাল না। তবে পিঠার গন্ধ পেলে এখন সে আস্তে এসে বলে — «ভাই, একটুখানি দেবে?» মোরগ হেসে বলে — «এই নাও!»