রাজবাড়ির পুকুরপাড়ে বুড়ো বটগাছ। মগডালে মা-কাক আর বাবা-কাকের বাসা। বাসায় তিনটে ডিম। কা-কা! কী খুশি দুজন!
একদিন ফিরে এসে দেখে — বাসা খালি! ডিম গেল কোথায়? নিচে, গর্তে সুড়ুৎ! — ঢুকে গেল একটা লম্বা লেজ। বাবা-কাক ফিসফিসাল, «সাপ!» মা-কাক খালি বাসাটা ডানায় জড়িয়ে রইল।
সাপ ফণা তুলল — কী উঁচু! হিসহিসিয়ে বলল, «এই গাছ এখন আমার। পারলে তাড়িয়ে দাও।» কাকদের গায়ে অত জোর নেই। ডানা ঝাপটে পিছিয়ে গেল দুজন।
রাত। চুপচাপ পুকুর, চুপচাপ গাছ। দুজন গা ঘেঁষে বসে রইল। মা-কাক আস্তে বলল, «গাছ ছাড়ব না। একটা পথ পাবই।» বাবা-কাক মাথা রাখল তার গায়ে।
সকালে ঘাটে এল রাজবাড়ির লোকজন, নামল পানিতে গোসলে। সিঁড়ির উপর পড়ে রইল রানির সোনার হার — ঝিকমিক! মা-কাকের চোখ জ্বলে উঠল। «পেয়েছি!»
ছোঁ! হার ঠোঁটে নিয়ে উড়াল দিল মা-কাক। পিছনে লাঠি হাতে ছুটল পাহারাদাররা — «ধর! ধর!» মা-কাক উড়ে গেল সোজা বটগাছের দিকে।
টুপ! হারটা পড়ল সাপের গর্তে। পাহারাদাররা লাঠি দিয়ে খুঁড়ল গর্ত — হার তো চাই! হুড়মুড় করে বেরিয়ে পালাল সাপ — দূরে, বহু দূরে। আর কোনোদিন ফেরেনি।
তারপর বাসায় এল নতুন ডিম। গোড়ার গর্তটা পড়ে আছে খালি। মা-কাক ডিমগুলোর গায়ে ডানা বুলিয়ে বলল — «গায়ের জোরে যা পারিনি, বুদ্ধিতে তা-ই পেরেছি।»