ঘন বনের সরু পথ। কাঁধে পুরোনো লোহার কুড়াল, গলায় গামছা — গান গাইতে গাইতে চলেছে কাঠুরে। পয়সা নেই, তবু মুখে হাসি। এই কুড়ালটাই তার সব।
খালের ধারে মরা গাছ। ঠক্! ঠক্! ঠক্! হঠাৎ হাত ফসকাল — ছলাৎ! কুড়াল ডুবে গেল কালো পানিতে। শুধু ঢেউ আর ঢেউ।
কাঠুরে ধপ করে বসে পড়ল পাড়ে। বন চুপ। শুধু টুপ… টুপ… পাতা থেকে পানি ঝরে। নতুন কুড়াল কেনার পয়সা নেই। — «কাল থেকে কী করে চলবে?»
হঠাৎ পানি ফুলে উঠল ভুরভুর করে। চারদিক নীলচে আলোয় ভরে গেল! উঠে এল এক জলপরী — হাতে সোনার কুড়াল। — «এটা কি তোমার, বাছা?» তুমি হলে কী বলতে?
সোনার ঝিলিকে চোখ ধাঁধায়। আঙুল নিশপিশ করে… তবু কাঠুরে মাথা নাড়ল — «না গো। আমারটা লোহার।» রুপার কুড়াল দেখেও — «না গো, না।» জলপরী তিনটেই তুলে দিল তার হাতে।
কথাটা কানে গেল পাশের বাড়ির লোভী কাঠুরের। সে নিজের কুড়াল ছুড়ে দিল খালে — ঝপাং! — তারপর মিছিমিছি কান্না। জলপরী উঠে এল সোনার কুড়াল নিয়ে — «এটা কি তোমার?» — «হ্যাঁ হ্যাঁ, ওটাই আমার!»
জলপরী চুপ করে তাকিয়ে রইল। তারপর ঠান্ডা গলায় — «লোহার কুড়ালের মালিক সোনার কুড়াল চিনল কী করে?» ফুস! আলো নিভে গেল। লোভী দাঁড়িয়ে রইল খালি হাতে।
সন্ধ্যায় জোনাকি জ্বলে টিপটিপ। লোভী বসে আছে মাথা নিচু করে। সৎ কাঠুরে কাঁধে হাত রাখল — «চলো ভাই, কাল থেকে দুজনে কাঠ কাটব। আমার তো এখন তিনটে কুড়াল!»