গদাই শিয়াল বড় গরিব, তবু মনটা নরম। এক বৃষ্টির সন্ধ্যায় — টুপটাপ, টুপটাপ — দরজায় এসে দাঁড়াল ভেজা এক রাজহাঁস, সোনাই। “ভেতরে এসো, শুকিয়ে নাও,” বলল গদাই।
পরদিন ভোরে খড়ের বাসায় ঝকঝক করে উঠল — একটা সোনার ডিম! “ওমা, সত্যিকারের সোনা!” সোনাই হেসে বলল, “তোমার যত্নের উপহার, বন্ধু।” এরপর রোজ ভোরে একটা করে সোনার ডিম।
গদাই টুকিটাকি জিনিস কিনল, ঘর সাজাল। কিন্তু পাশের বাড়ির বড় দালান দেখে মনটা আঁকুপাঁকু করে উঠল। “রোজ মোটে একটা ডিম? উঁহু, বড্ড দেরি হয়!” লোভে তার চোখ চকচক করে উঠল।
মনে মনে গদাই ফন্দি আঁটল — “সোনাই নিশ্চয় সোনায় ঠাসা! একসাথে সব সোনা বের করে নিলেই আমি গাঁয়ের সেরা ধনী!” লোভে বুক ধুকপুক, দুই থাবা নিশপিশ করে উঠল।
সেই রাতে গদাই হুড়মুড় করে ছুটল বাসার দিকে — “সব সোনা আমার, এক্ষুনি!” ভয়ে সোনাই ডানা ঝাপটাল, প্যাঁক-প্যাঁক করে ডাকল — “গদাই, এ তুমি কী করছ!”
সোনাই ডানা মেলে উড়ে গেল খালের ওপারে। “ফিরে আয়, সোনাই! ফিরে আয়!” — গদাই চেঁচিয়ে ছুটল খালের ধারে। কিন্তু সোনাই আর ফিরে তাকাল না, মিলিয়ে গেল দূরে… বহুদূরে। ফাঁকা বাসায় রইল শুধু খড় — সোনার ডিম আর কোনোদিন এল না।
সেই থেকে গদাই আর কোনোদিন লোভ করেনি। ফাঁকা বাসাটার দিকে তাকালে আজও বুকটা টনটন করে — লোভের হাতেই যে সে হারিয়েছে সোনার ডিম আর বন্ধু, দুটোই। যা সামান্য আছে, তাতেই এখন সে তৃপ্ত — বড় দামে কেনা এই শিক্ষা।