গরম দুপুর গড়িয়ে বিকেল। শিয়ালের গলা শুকিয়ে কাঠ। হঠাৎ চোখ আটকে গেল — বাঁশের মাচায় থোকা থোকা পাকা আঙুর! জিভে পানি এসে গেল। ওপরে বসে এক চড়ুই টুকটুক করে খাচ্ছে।
— «অত ওপরে আঙুর? আমার কাছে কিছুই না!» শিয়াল গা ঝাড়া দিয়ে দিল এক লাফ। হুপ! নাগাল পেল না। থাবা শূন্যে খামচে আবার ধুপ করে পড়ল মাটিতে। ওপরে চড়ুই মিটিমিটি হাসে।
এবার শিয়াল পিছিয়ে গিয়ে দৌড়ে এল। এক লাফ… আরেক লাফ… আরও এক! পা টান টান — তবু আঙুর যেন আরও ওপরে সরে যায়। ওপর থেকে চড়ুই ডাকল — «আর একটুখানি! পারবে!»
শেষমেশ আর দম নেই। হাঁপাতে হাঁপাতে শিয়াল বসে পড়ল মাটিতে। অনেক অনেক ওপরে আঙুরগুলো তখনো ঝুলছে — একটুও নাগালে এল না। সন্ধ্যার আলো নিভে আসে।
শিয়াল উঠে নাক উঁচু করে বলল — «ধুর! ও আঙুর তো টক। আমি এমনিতেও খেতাম না!» টিপটিপ করে বৃষ্টি নামল। চড়ুই অবাক — «টক? এই তো এত মিষ্টি!»
একটু এগোতেই — বাহ্! ঝোপের নিচু ডালে পাকা টসটসে বরই, একদম নাগালেই! কচমচ — আহা, কী মিষ্টি! চড়ুই উড়ে এসে বলল — «এইটাই তো তোমার আসল আঙুর, শিয়াল ভাই!»
জোনাকি জ্বলা সন্ধ্যায় দুজনে বরই খেল পেট ভরে। নিজের কাণ্ড ভেবে শিয়াল হেসেই ফেলল। আচ্ছা বলো তো — আঙুর কি সত্যিই টক ছিল?