গরম দুপুর গড়িয়ে বিকেল। পথ চলতে চলতে লালু শিয়ালের গলা শুকিয়ে কাঠ। হঠাৎ চোখ আটকে গেল — বাঁশের মাচায় থোকা থোকা পাকা আঙুর, রোদে টলমল করছে! লালুর জিভে পানি এসে গেল। ওপরে বসে এক ছোট্ট চড়ুই টুকটুক করে আঙুর খাচ্ছিল।
“অত ওপরে আঙুর? আমার কাছে কিছুই না!” — বলেই লালু গা ঝাড়া দিয়ে দিল এক লাফ। হুপ! নাগাল পেল না। থাবা শূন্যে খামচে আবার ধুপ করে পড়ল মাটিতে। ওপরে বসে চড়ুই মিটিমিটি হাসে।
এবার লালু পিছিয়ে গিয়ে দৌড়ে এল। এক লাফ… আরেক লাফ… আরও এক লাফ! পা টান টান, শরীর লম্বা — তবু আঙুর যেন আরও ওপরে সরে যায়। কপাল বেয়ে ঘাম পড়ে টুপটাপ। ওপর থেকে চড়ুই ডাকল — “আর একটুখানি, লালু ভাই! পারবে!”
শেষমেশ লালুর আর দম নেই। হাঁপাতে হাঁপাতে সে বসে পড়ল মাটিতে। বুক ওঠে-নামে, জিভ বেরিয়ে গেছে। মাথার অনেক অনেক ওপরে আঙুরগুলো তখনো ঝুলছে — একটুও নাগালে এল না। সন্ধ্যার আলো ধীরে ধীরে নিভে আসে।
লালু উঠে দাঁড়াল। নাক উঁচু করে বলল — “ধুর! ও আঙুর তো টক। অমন টক আঙুর কে খায়? আমি এমনিতেও খেতাম না!” টিপটিপ করে বৃষ্টি নামল। চড়ুই অবাক — “টক? এই তো এত মিষ্টি!” লালু মুখ ঘুরিয়ে হাঁটা দিল।
একটু এগোতেই — বাহ্! ঝোপের কোলে নিচু ডালে পাকা টসটসে বরই। এগুলো তো লালুর নাগালেই! সে টুক করে একটা মুখে পুরল — কচমচ! আহা, কী মিষ্টি, কী রসালো! বৃষ্টি থেমে ঝিলিক দিল রোদ। চড়ুই উড়ে এসে বলল — “এইটাই তো তোমার আসল আঙুর, লালু ভাই!”
জোনাকি জ্বলা সন্ধ্যায় দু'জন মিলে বরই খেল পেট ভরে। নিজের কাণ্ড ভেবে লালু হেসেই ফেলল। তুমিই বলো তো — আঙুর কি সত্যিই টক ছিল, না লালুর নাগালে ছিল না বলেই টক মনে হচ্ছিল? নাগালের বাইরের জিনিসে মন খারাপ নয়, বন্ধু — যা পাও, তাতেই আসল সুখ।