অনেক অনেক দূরে, বরফে ঢাকা এক দেশ। বড় পেঙ্গুইনদের মাঝখানে ছোট্ট তিন ছানা — টুকি, পুঁচকি আর মটু। দলের মাঝখানটাই সবচেয়ে গরম, তাই তিনজনে ঠেলাঠেলি — “সর্! মাঝখানটা আমার!” “না, আমার!”
ঠেলাঠেলি বেড়েই চলল। রাগ করে তিন ছানা সরে গেল তিন দিকে — “তোদের গরম তোরা রাখ্, নিজের ওম নিজেই বানাব!” ছানারা সরতেই দলটা ফাঁক হয়ে গেল, ভেতরে ঢুকে পড়ল হিমেল বাতাস। দূর থেকে সব দেখলেন বুড়ো দাদু।
দাদু কাছে এসে বললেন — “একা একটু দাঁড়িয়ে দেখ্ তো, দাদুভাইরা।” টুকি দাঁড়াল একা — কাঁপুনি ধরে গেল। পুঁচকি দাঁড়াল একা — ঠকঠক করে দাঁত লাগল। মটু দাঁড়াল একা — নাকটা বরফ। তিনজনই ছুটে ফিরে এল।
“এবার তিনজন একসাথে দাঁড়া তো।” তিন ছানা গা ঘেঁষে দাঁড়াল, মাথায় মাথা মিশিয়ে। এক… দুই… দশ গুনেও কারও শীত করল না — যেন মায়ের কাঁথার ওম! “আরে, একসাথে তো গরমই গরম!” হেসে উঠল টুকি। কিন্তু বহু দূরে আকাশের কোণে জমছিল কালো এক ঝড়।
তারপরই এল ঝড়। শোঁ-শোঁ বাতাস, চারদিক ধবধবে সাদা — কিছুই দেখা যায় না! সব পেঙ্গুইন গা ঘেঁষে বানাল বিরাট এক দল, আর সেই দল ঘুরতে লাগল ধীরে ধীরে — বাইরের জন ভেতরে, ভেতরের জন বাইরে। “ঘুরে ঘুরে দাঁড়া! কেউ একা বাইরে থাকিস না!”
টুকির পালা এল বাইরের ধারে। বাতাস কামড় দিল, তবু সে টিকে রইল — কারণ পিঠে পিঠ রেখে দাঁড়িয়ে পুঁচকি। হঠাৎ চোখে পড়ল, একটু দূরে বরফে আটকে গেছে মটু! কাউকে না ডেকে টুকি আর পুঁচকি ছুটে গিয়ে ডানা বাড়িয়ে টেনে আনল তাকে। ভেতরে তখন চুপচাপ, শুধু সবার শরীরের ওম।
সকালে ঝড় থেমে গেল। আকাশজুড়ে ঝিলমিল করে উঠল সবুজ-বেগুনি মেরুজ্যোতি। তিন ছানা আর ঝগড়া করল না — সবচেয়ে ছোট মটুকে ওরা বসিয়ে দিল মাঝখানটায়, সবচেয়ে গরম জায়গায়। দাদু হাসলেন। আর তিন ছানা একসাথে বলল — “একা কাঁপি, একসাথে ওম!”