ভোরের আলোয় খালপাড়ের রাস্তায় দাঁড়িয়ে ধানের বস্তা-বোঝাই এক গরুর গাড়ি। কিন্তু গরু কই? রাজহাঁস ডানা ঝাপটে ডাকল — “আজ হাটবার! গরু নেই তো কী, আমরা তিনজন আছি না?” খাল থেকে বোয়াল গোঁফ নাচিয়ে বলল — “হ্যাঁ ভাই, টেনে নিয়ে যাব-ই!”
তিন বন্ধু গাড়িতে দড়ি বাঁধল। রাজহাঁস বলল — “আমার ডানায় আকাশের জোর!” বোয়াল বলল — “আমার লেজে খালের জোর!” কাঁকড়া দাঁড়া উঁচিয়ে বলল — “আর আমার দাঁড়া লোহার মতো শক্ত!” সবাই তৈরি। কিন্তু কে কোন দিকে টানবে, তা কি কেউ ভাবল?
“হেঁইয়ো!” — রাজহাঁস টানল আকাশপানে, ফড়ফড়! বোয়াল টানল খালের পানিতে, ঝপাং! কাঁকড়া টানল পেছনে, খটখট! তিনজন টানে তো টানে, গায়ের ঘাম ঝরে — কিন্তু গাড়ি? ক্যাঁচ্! নড়ে না এক চুলও — ধুলোই শুধু উড়ল।
“তুমি ঠিকমতো টানছ না!” — রাগে বলল রাজহাঁস। “তুমিই তো উল্টো দিকে!” — গোঁফ ফুলিয়ে বলল বোয়াল। “চুপ! আবার টানো!” — বলল কাঁকড়া। আরও জোরে… আরও জোরে… আরও জোরে! তবু গাড়ি সেই যেখানে ছিল, সেখানেই।
সন্ধ্যা নামল। তিন বন্ধু চুপচাপ বসে — ডানা ঝুলে পড়েছে, গোঁফ নেতিয়ে গেছে, দাঁড়া মাটিতে। দূরের হাট থেকে ভেসে আসছে ঢোলের শেষ শব্দ — ধিম… ধিম… হাট ভেঙে যাচ্ছে। আর গাড়ি? যেখানে সকালে ছিল, ঠিক সেখানেই।
হঠাৎ কাঁকড়ার চোখ দুটো জ্বলে উঠল। — “শোনো! আমি তো পেছনে হেঁটে সব দেখেছি — তুমি টানো আকাশে, তুমি খালে, আমি পিছনে! তিনজন তিন দিকে!” রাজহাঁস অবাক — “তাহলে?” — “সবাই এক দিকে! ওই হাটের পথে!”
এক… দুই… তিন — হেঁইয়ো! ক্যাঁচ-কোঁচ! গাড়ি নড়ল! হাট অবশ্য ভেঙে গেছে — সে-দিনের হাটবার আর ফিরল না। তবু চাঁদের আলোয় তিন বন্ধু গান ধরল — “এক দিকে, হেঁইয়ো! এক সাথে, হেঁইয়ো! এক দিকে না টানলে, গাড়ি চলে না!”