বনের রাজা সিংহ বুড়ো হয়েছে। আগের মতো ছুটতে পারে না, শিকারও ধরতে পারে না। খিদেয় পেট চোঁ-চোঁ! একদিন সে ফন্দি আঁটল — “অসুখের ভান করে শুয়ে থাকব। সবাই আমাকে দেখতে আসবে। আর আমার খাবার নিজের পায়ে হেঁটে ঢুকবে আমার গুহায়! হুঁ হুঁ!”
পরদিন সারা বনে খবর ছড়িয়ে পড়ল — “রাজা ভীষণ অসুস্থ! গুহা থেকে বেরোতেই পারছেন না!” পাখিরা উড়ে উড়ে সবাইকে বলে দিল। খরগোশ বলল — “ইস! চলো, রাজাকে দেখে আসি।” কাঠবিড়ালি বলল — “আমি ফল নিয়ে যাব।” ভালুক বলল — “আমি মধু।”
খরগোশ গেল গুহায় — আর ফিরল না। কাঠবিড়ালি গেল — সে-ও ফিরল না। থপথপ পায়ে ভালুক গেল — ফিরল না সে-ও! সবাই ভাবল, রাজার সেবা করতে থেকে গেছে বুঝি। কিন্তু আজব কথা — “অসুস্থ” রাজার গলা নাকি দিন দিন আরও জোরালো হচ্ছে!
শেষে এল শিয়াল। গুহার মুখে গিয়েই সে থমকে দাঁড়াল। মাটিতে মুখ নামিয়ে শুঁকল — শুঁক শুঁক! পায়ের ছাপ! খরগোশের ছাপ, ভালুকের ছাপ, কাঠবিড়ালির ছাপ — সঅঅব গেছে ভেতরের দিকে। আর বাইরের দিকে? একটাও না! শিয়ালের কান খাড়া — “হুঁ! ব্যাপারটা তবে কী?”
গুহার ভেতর থেকে মিষ্টি গলায় ডাক এল — “কে? শিয়াল ভাই বুঝি? এসো এসো, ভেতরে এসো! শরীরটা বড্ড খারাপ।” শিয়াল দুই পা পিছিয়ে বলল — “মাফ করবেন মহারাজ! ভেতরে যাওয়ার ছাপ অনেক দেখছি, কিন্তু বেরিয়ে আসার ছাপ একটাও নেই। তাই আমি বাইরে থেকেই বলি — ভালো হয়ে উঠুন!”
বলেই শিয়াল এক দৌড়! সারা বনে গলা ছেড়ে হাঁক দিল — “শোনো সবাই! ও-গুহায় ঢোকার ছাপ আছে, বেরোনোর ছাপ নেই! কেউ ও-মুখো হয়ো না!” পাখিরা সেই খবর গাছে গাছে ছড়িয়ে দিল। সেদিন থেকে কেউ আর ও-পথ মাড়াল না।
আর ধূর্ত রাজা? গুহায় বসে সে অপেক্ষা করতেই থাকল — কিন্তু কেউ আর এল না। ফন্দিও শেষ, ভোজও শেষ! আর চালাক শিয়াল? সে আজও সন্ধ্যাবেলা ছানাদের এই গল্পটা শোনায়। শেষে সবাই মিলে জোরে বলে — “আগে দেখো, তারপর ভাবো, তারপর পা বাড়াও!”