বনের সবচেয়ে লম্বা ছিল জিরাফ — গলা এত লম্বা যে মাথা প্রায় মেঘ ছোঁয়! কিন্তু তার লজ্জা লাগত — সবাই বেঁটে, খালি সে কেন আলাদা? তাই গলা নিচু করে ছোট হয়ে থাকত।
একদিন সিংহ তাকে দেখে হো হো করে হেসে উঠল — «এ আবার কেমন গলা! মই নাকি?» পাশের সবাই খিলখিল করে হাসল। জিরাফের গলা নুয়ে পড়ল, চোখে টলমল করল এক ফোঁটা পানি।
এল ভীষণ খরা। রোদ চড়ল, মাটি ফাটল, পুকুর শুকিয়ে কাঠ। সবাই তেষ্টায় ছটফট। সিংহ গর্জে উঠল — «পানি চাই! এক্ষুনি!» কিন্তু গর্জন করে কি আর পানি আসে?
তখন জিরাফ গলা উঁচু করল — আরও উঁচু, বটগাছের চেয়েও উঁচু! দূরে পাহাড়ের ওপারে কী যেন চিকচিক করছে — পানি! — «সবাই এসো! ওই দিকে পানি আছে!»
জিরাফ আগে আগে চলল, পিছনে সবাই সারি বেঁধে। ছোট্ট খরগোশছানা হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত — জিরাফ গলা নামিয়ে তাকে পিঠে তুলে নিল। একটু পরেই — ঝলমলে এক বড় পুকুর!
সন্ধ্যা নামল। ভরা পুকুরের ধারে সিংহ আস্তে আস্তে এল জিরাফের কাছে। মাথা নিচু, গলা নরম — «আমি তোমার গলা নিয়ে হেসেছিলাম… সেই গলাই আজ আমাদের বাঁচাল। মাফ করে দাও।»
জিরাফ মিষ্টি করে হাসল — «মাফ তো কবেই করে দিয়েছি। চলো, এখন থেকে আমরা বন্ধু।» কেউ বেঁটে, কেউ লম্বা, কেউ জোরে দৌড়ায়, কেউ অনেক দূর দেখে।