পাহাড়ের গায়ে ছোট্ট এক গর্তে থাকে ছোট্ট ইঁদুর। ভোরবেলা বেরিয়ে সে দেখে — আকাশজুড়ে উঠছে ঝলমলে সূর্য! ইঁদুরের মনে হঠাৎ এক প্রশ্ন — «সবচেয়ে বড় কে?» বলো তো, তুমি জানো? ইঁদুর ঠিক করল — সূর্যকেই জিজ্ঞেস করবে!
টিলার চূড়ায় উঠে ইঁদুর ডাকল — «সূর্য ভাই, সূর্য ভাই! সবচেয়ে বড় বুঝি তুমি?» সূর্য ঝলমল হেসে বলল — «আমি? না রে ভাই! মেঘ এসে ঢেকে দিলে আমার আলোই মাটিতে পৌঁছায় না। মেঘই আমার চেয়ে বড়।»
অমনি গুড়গুড় করে এল ধূসর এক মেঘ — ঢেকে দিল সূর্যকে! ইঁদুর ডাকল — «মেঘ ভাই! তাহলে সবচেয়ে বড় তুমি!» মেঘ মাথা নাড়ল — «উঁহু! হাওয়া এক ফুঁ দিলেই আমি ছেঁড়া তুলোর মতো উড়ে যাই। হাওয়াই বড়।»
শোঁ-ও-ও! হাওয়া ছুটে এল — মেঘ গেল উড়ে, পাতারা নাচে ঘুরপাক! ঘাস চেপে ধরে ইঁদুর চেঁচাল — «হাওয়া ভাই! সবচেয়ে বড় তুমিই!» হাওয়া হাসল — «আমি সব ওড়াই ঠিকই, কিন্তু ওই পাহাড়ের গায়ে ধাক্কা খেয়ে থেমে যাই। পাহাড়ই বড়।»
সোনালি বিকেলে ইঁদুর এল পাহাড়ের পায়ের কাছে। কী বিশাল! মাথা এত উঁচু যে চূড়াই দেখা যায় না। ইঁদুর ডাকল — «পাহাড় ভাই! তুমিই নিশ্চয় সবচেয়ে বড়!» পাহাড় গমগম করে বলল — «শোন রে ছোট্ট ভাই... আমিও একজনকে থামাতে পারি না।»
পাহাড় ফিসফিস করে বলল — «ছোট্ট ইঁদুর খুটখুট করে আমার বুকের ভেতর সুড়ঙ্গ কাটে — তাকে আমি থামাতে পারি না!» ইঁদুরের চোখ বড় বড় — «ইঁদুর? মানে... আমি?» নিজের ছোট্ট দুই হাতের দিকে সে চুপ করে তাকিয়ে রইল।
রাতে পাহাড়ের কাঁধে বসে ইঁদুর দেখল টিমটিমে হাজার তারা। সূর্যের চেয়ে মেঘ, মেঘের চেয়ে হাওয়া, হাওয়ার চেয়ে পাহাড় — আর পাহাড়ও থামাতে পারে না ছোট্ট ইঁদুরকে! ইঁদুর কিচকিচ হেসে বলল — «সবচেয়ে বড় কেউ একা নয় — সবার আছে নিজের শক্তি!»