শীতের ভোর। মেলার মাঠে এল বিশাল এক উট — পিঠে বাতাসার বস্তা, মুড়কির হাঁড়ি। সবাই ব্যস্ত, কেউ তাকাল না। এক কোণে সে খড় চিবোয়। একা।
টুপ! কুঁজের ওপর নামল ছোট্ট এক দোয়েল। — «ওমা! পাহাড়টা নড়ে কেন গো?» — «আমি পাহাড় নই রে, আমি উট!» তারপর — টিউ-টিউ-টিরিরি! এমন গান উট কোনোদিন শোনেনি।
সেদিন থেকে দুজন একসঙ্গে। দোয়েল গায়, উট হাঁটে — থপ থপ থপ। দোয়েল ডানা মেলে ছায়া দেয়, উট নুইয়ে দেয় বাবলার ডাল। — «তুই পাশে থাকলে পথটাও ছোট লাগে!»
ক্লান্ত উট ঘুমিয়ে পড়ল। এল খাঁচা-ভরা গাড়ি নিয়ে এক শিয়াল — গান শুনে চোখ চকচক। মুড়কি ছড়িয়ে ফাঁদ পাতল… খুট! — «উট ভাই!» উট তখন গভীর ঘুমে।
সকালে ঘুম ভেঙে উট দেখল — কুঁজ খালি। দোয়েল নেই। সেদিন সে খড় ছুঁল না, পরদিনও না। শুধু আকাশের পাখিদের দিকে তাকিয়ে রইল।
রাতে এল বুড়ি পেঁচা। জ্বর নেই, ক্ষতও নেই। — «কী হারিয়েছে, বাছা?» লম্বা পাপড়ি বেয়ে গড়াল এক ফোঁটা পানি — «আমার দোয়েল।» — «এ অসুখ সারে শুধু বন্ধুতে।»
ভোরে খোঁজ মিলল — শিয়ালের দোকানে ঝুলছে খাঁচা। শিয়াল যতই বলে «গা না রে!» — দোয়েল একটা শিসও দেয় না। পেঁচা বলল — «খাঁচায় ভরলেই গান মরে যায়।» শিয়াল নিজেই খুলে দিল দরজা।
টিউ-টিউ-টিরিরি! দোয়েল উড়ে বসল চেনা কুঁজে — গানে ভরে গেল গোটা মেলা। খালি খাঁচাটা শিয়াল রেখে দিল দোকানের কোণে — মনে রাখবে বলে। তোমারও কি এমন বন্ধু আছে?